শেষ সময়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ সরানোর সুযোগ নেই, জোটের আসনেও লড়বে জামায়াত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের শরিকদের জন্য সাতটি আসন ছেড়ে দিলেও কারিগরি জটিলতায় সেসব আসনেও লড়তে হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীকে। শেষ সময়ে ব্যালট পেপার থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বাদ দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করলেও তা নাকচ করে দিয়েছে কমিশন। ফলে জোটের শরিক প্রার্থীদের সঙ্গে এখন নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকতে হচ্ছে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদেরই।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম মিয়া পরওয়ারকে এক চিঠিতে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন। এর আগে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ব্যালটে না রাখার আবেদন করেছিলেন।
চিঠিতে তিনি দাবি করেছিলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমরা জাতীয় সংসদের নরসিংদী-২ আসনে আমজাদ হোসাইনকে এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে মো. আবু নাসেরকে মনোনয়ন প্রদান করেছিলাম। কিন্তু ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জাতীয় সংসদের নরসিংদী-২ আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী গোলাম সরোয়ারকে এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে ছেড়ে দিয়েছি। ওই দুই আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ২ জন যথাসময়ে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। তাই ওই দুটি আসনের ব্যালট পেপারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখার জন্য অনুরোধ করছি।
অপর আরেকটি চিঠিতে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমরা ভোলা-২ আসনে মোহাম্মদ ফজলুল করিমকে, নরসিংদী-৩ আসনে মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়াকে, সুনামগঞ্জ-১ আসনে তোফায়েল আহমদকে এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনে মোহাম্মদ ফরিদুল আলমকে মনোনয়ন প্রদান করেছিলাম। কিন্তু ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ভোলা-২ আসনটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) মনোনীত প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরীকে, নরসিংদী-৩ আসনটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম) মনোনীত প্রার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম) মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহানকে, সুনামগঞ্জ-১ আসনটি নেজামে ইসলাম পার্টি মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোজাম্মেল হক তালুকদারকে এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) মনোনীত প্রার্থী এম ইয়াকুব আলীকে ছেড়ে দিয়েছি। ওই পাঁচ আসনের জামায়াত মনোনীত পাঁচজন প্রার্থী যথাসময়ে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। তাই ওই পাঁচটি আসনের ব্যালট পেপারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখার জন্য অনুরোধ করছি।
জামায়াতের দাবির পরিপেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন দলটিকে জানায়, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১৬(২) এ যেক্ষেত্রে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়, সেক্ষেত্রে দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী কোনো ব্যক্তি, তৎকর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি লিখিত নোটিশ দ্বারা, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখে বা উহার পূর্বে, তিনি স্বয়ং বা এতদুদ্দেশ্যে তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারকে কোনো প্রার্থীর চূড়ান্ত মনোনয়ন সম্পর্কে অবহিত করিবেন এবং উক্ত দলের অন্যান্য প্রার্থীর প্রার্থিতা স্থগিত হইবে।’ মর্মে উল্লেখ রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতীক প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকার বিষয়টি আপনার অবগতির জন্য জানানো হলো।
ইসির এই সিদ্ধান্তের ফলে জোটকে ছেড়ে দেওয়া প্রার্থীর সঙ্গেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জামায়াতের প্রার্থীরা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এসআর/এমএন