নারী হেনস্তাসহ প্রচারণায় বাধা দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে একটি দল

সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড ও নারী হেনস্তাসহ নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিয়ে একটি রাজনৈতিক দল পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করে দলটি।
গত কয়েক দিনে নারী কর্মীদের নাজেহাল করার বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে জামায়াত জানায়, এসব বিষয়ে নালিশ জানাতে আগামীকাল (রোববার) বিকেল তিনটায় দলটির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরুর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আচরণবিধি লঙ্ঘন, হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটছে। তিনি ২৯ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণাকালে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নারী হেনস্তার গুরুতর সব অভিযোগের বিবরণ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ২৯ জানুয়ারি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ঝিনাইগাতীতে একটি নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে আসন গ্রহণকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ সময় হামলায় আরও প্রায় ৫০ জন আহত হন। এ ছাড়া গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শিবির নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা এবং সাধারণ ভোটার ও ভিক্ষুককে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
নারীদের ওপর হামলার বিষয়ে জুবায়ের বলেন, যশোর, নোয়াখালী ও কুষ্টিয়ায় জামায়াতের নারী কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও শারীরিক লাঞ্ছনার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়ায় যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে মুফতি আমির হামজার মা ও নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। সীতাকুণ্ড ও নওগাঁতেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর টাকা বিতরণের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে এবং ঢাকায় ইমাম-খতিবদের মধ্যে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ফরিদপুর ও সীতাকুণ্ডে স্বতন্ত্র ও জামায়াত প্রার্থীর মিছিলে হামলা ও ব্যানার পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে।
বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ‘ভোটের দিন দেখা হবে’–এমন বক্তব্যকে উসকানিমূলক দাবি করে জামায়াত নেতা মিলন মিয়া ও মিলন হাদি গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেন জুবায়ের। তিনি বলেন, গাইবান্ধা, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাগুরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপি ও যুবদলের একাধিক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন।
জামায়াত আরও অভিযোগ করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। শেরপুরে যুবদল নেতা সাইফুল হত্যা ও কিশোরগঞ্জে জামায়াতের হাতে বিএনপি নেতা খুনের দাবিকে ‘মিথ্যা প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে অভিহিত করেন জুবায়ের।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘একটি দল আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি করে সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে রাখতে চাইছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করছি। আগামীর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসকের ঠাঁই হবে না। যারা নারীকে হেনস্তা ও চাঁদাবাজি করছেন, তাদের মুখোশ জনগণের সামনে উন্মোচন করা হবে।’
জেইউ/বিআরইউ