ক্ষমতার লোভে বিএনপি ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেনি : রবিন

ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেছেন, ক্ষমতার লোভে বিএনপি কখনোই ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেনি। বরং বিএনপি সবসময় মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়ের রাজনীতিতেই বিশ্বাস করে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কদমতলী থানাধীন ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান বাড়ি কলেজ রোডে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রবিন বলেন, শুধু মুখে বললে পরিবর্তন আসে না, পরিবর্তন আসে কাজের মাধ্যমে। আমাদের তরুণদের দিনরাত পরিশ্রম করে এই এলাকার বাস্তব পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে ৩১ দফা ও ৯টি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে সরকার গঠন করতে পারলে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো হবে।
বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী বলেন, মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, বাবাদের জন্য কৃষি কার্ড, সন্তানদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কমিউনিটি সেন্টার ও হাসপাতাল নির্মাণ, প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ তৈরি, মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও পার্ক নির্মাণ, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ও আলেম সমাজের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিজ এলাকাকে ডেঙ্গুর আঁতুড়ঘর উল্লেখ করে রবিন বলেন, জুরাইন নাম শুনলেই অনেকে ডেঙ্গুর কথা মনে করে। জলাবদ্ধতা এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা। অধিকাংশ রাস্তায় ড্রেন নেই, আর যেখানে আছে সেখানে অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে রাস্তাগুলো নিচু হয়ে গেছে। উন্নয়নের নামে হয়েছে লুটপাট, ফলে এলাকা অপরিকল্পিত নগরে পরিণত হয়েছে।
এলাকার সমস্যা সমাধানে নিজের ঘোষিত ২০টি অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে রবিন বলেন, স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেই এই অঙ্গীকার করা হয়েছে। কিছু সমস্যা এলাকাবাসী মিলেই সমাধান করা সম্ভব, আর বড় সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
এলাকার মুরুব্বি ও আলেম সমাজের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে আলেম সমাজ ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান দেওয়া হয়নি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে জঙ্গিবাদী তকমা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমরা সেই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে মুক্ত আলোচনা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্তের পরিবেশ তৈরি করতে চাই।
রবিন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, দেশের মানুষের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চাই। তার একজন কর্মী হিসেবে আমি বলতে চাই, আমরা এই এলাকার মানুষের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চাই।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ১৮ বছর পর মানুষ ভোটের স্বাধীনতা ফিরে পেয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে একটি দায়বদ্ধ সরকার গঠনের জন্য।
ইসলামের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে একটি দলের অপকর্মের প্রসঙ্গ টেনে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি নারীদের অবমাননাকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভোটের মাধ্যমে ভণ্ড ও মুনাফেকদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান।
পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী মীর হোসেন মীরু। বিশেষ অতিথি ছিলেন কদমতলী থানা বিএনপির আহ্বায়ক আবু নাসের ফকির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মেরাজুল ইসলাম বাবুল এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর খালেদা আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন আলমগীর খান লিপু। সঞ্চালনা করেন আনোয়ার হোসেন স্বপন ও লুৎফুল কবির চৌধুরী।
এএএম/এমএন