জামায়াতের ডা. শফিক এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়বেন বিএনপির শফিকও

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৫ আসনে জমে উঠেছে ‘দুই শফিকের’ লড়াই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এখনো স্পষ্ট ফয়সালা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ভোটারদের বড় অংশ জামায়াত প্রার্থীকে এগিয়ে রাখছেন, যদিও বিএনপিও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
জরিপে ‘আপনি কী মনে করেন এই আসনে কে জিততে পারে?’ এই প্রশ্নে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ঢাকা-১৫ আসনে জয়ী হবেন জামায়াত প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান। অপরদিকে ৩০ শতাংশ মনে করেন, বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জিততে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা ও এডভোকেসি সংস্থা সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের করা জরিপে ঢাকা-১৫ আসনে ভোটারদের মনোভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
জরিপ অনুযায়ী, ঢাকা ১৫ আসনে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা এখনো নিশ্চিত নন। ১২ দশমিক ১ শতাংশ মত প্রকাশ করতে চাননি এবং অল্পসংখ্যক উত্তরদাতা অন্য বিকল্পের কথা বলেছেন।
পুরুষ ভোটারদের মধ্যে জামায়াত প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ। বিএনপির পক্ষে মত দিয়েছেন ২৬ শতাংশ পুরুষ ভোটার। নারীদের মধ্যেও জামায়াত প্রার্থী এগিয়ে- ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ। তবে নারীদের মধ্যে বিএনপির প্রতি সমর্থন তুলনামূলক কম, ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ। নারী ভোটারদের মধ্যে ‘জানি না’ ও ‘বলতে চাই না’- এই প্রবণতাও তুলনামূলক বেশি।
বয়স অনুযায়ী ভোটারদের পছন্দ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮–২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ জামায়াত প্রার্থীকে ভোট দিতে চান, বিএনপিকে সমর্থন ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। এই বয়সীদের মধ্যে সিদ্ধান্তহীন ভোটারও উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও ২৬–৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে জামায়াত প্রার্থীর সমর্থন ৫৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ, বিএনপির ৫২ দশমিক ৩৬ শতাংশ- এখানে লড়াই সবচেয়ে কাছাকাছি।
এদিকে ৩৬–৪৫ বছর বয়সীদের মধ্যে জামায়াত প্রার্থী সবচেয়ে এগিয়ে- ৭১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। বিএনপির সমর্থন ৫৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। ৪৬–৫৫ বছর বয়সীদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন ২৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ, বিএনপির ২৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটারদের মধ্যেও জামায়াত প্রার্থী এগিয়ে— ২১ দশমিক ৪১ শতাংশ। তবে এই বয়সী ভোটারদের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতার হার তুলনামূলক বেশি।
টিআই/এমএসএ