সন্ত্রাস-দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে : কামাল হোসেন

সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-৫ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সংসদ সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, পৃথিবীর যত বিপ্লব অর্জিত হয়েছে সব বিপ্লবই তরুণদের হাত ধরে এসেছে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ থেকে শুরু করে চব্বিশের বিপ্লব এদেশের তরুণ যুবসমাজের হাত ধরেই অর্জিত হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-৫ আসন কমিটির উদ্যোগে দনিয়া কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত তারুণ্যের উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বয়কট করতে তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, বৈষম্যহীন ইনসাফ ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এক কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান।
গণভোট প্রসঙ্গে মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলে ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে বন্ধ হবে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে, এক দলীয় শাসনব্যবস্থার কবর রচিত হবে। কিন্তু যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর বিপক্ষে তারা এদেশে আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়, জনগণের অধিকার লুণ্ঠন করতে চায়, এক দলীয় শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের কণ্ঠরোধ করতে চায়। মনে রাখতে হবে, হ্যাঁ মানে আজাদি আর না মানে গোলামি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কারো গোলামি করবে না, করতে পারে না। যারা আধিপত্যবাদের গোলামি করতে চায় তারাই হ্যাঁ এর বিপক্ষে। তিনি উপস্থিত তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, জুলাইয়ে যেমনি তোমরা তোমাদের ভাই, তোমাদের সহপাঠী, তোমাদের সহযোদ্ধাদের রক্ত প্রতিশোধে গর্জে উঠেছিলে, যেমনি তোমরা আপসহীন ছিলে ঠিক তেমনি তোমাদের ভাইদের হত্যাকারীদের বিচারের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে।
তারুণ্যের উৎসব অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, একটি সুন্দর বাংলাদেশ চাওয়ার জন্য আমাদেরকে বারবার জীবন দিতে হয়। বিগত ১৬ বছর মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়ে নীরবে কাঁদছে। তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যারা বিগত সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে তারা শাসক আর শোষক হয়েছে, জনগণের সেবক হয়নি। আমরা ছাত্র সমাজ আমাদের অধিকার চেয়েছি। শহীদ আবু সাঈদ অধিকার চাওয়ায় তার বুকে গুলি চালিয়ে তাকে শহীদ করা হয়েছে। কিন্তু ছাত্র সমাজকে দমিয়ে রাখা যায়নি। জুলাইয়ের আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে সাধারণ জনতার সঙ্গে আমাদের মা-বোনেরাও রাজপথে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, আমরা জুলাই পরবর্তী ভেবেছি আমাদের স্বপ্নপূরণ হয়েছে। কিন্তু না আরেকটি রাজনৈতিক দলের চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসীদের আমাদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। তারা চাঁদার জন্য ঢাকার মিটফোর্ড ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে থ্যাঁতলে-থ্যাঁতলে হত্যা করা হয়েছে। তারা এরইমধ্যে ২৩১ জনকে খুন করেছে। যারমধ্যে বেশিরভাগ তারা নিজেরা নিজেদের কর্মীকে খুন করেছে। যার নিজ দলের কর্মীকে চাঁদার জন্য খুন করতে পারে তাদের হাতে দেশ ও জাতি নিরাপদ নয়।
তরুণ শিক্ষার্থীরা তাদের বয়কট করার কারণে তাদের ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে উল্লেখ সিবগাতুল্লাহ বলেন, জাতীয় নির্বাচনেও তরুণ প্রজন্ম ব্যালটের মাধ্যমে তাদেরকে বয়কট করবে।
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৫ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক শাহরিয়ার, ডাকসু’র ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মাওলানা মোখলেসুর রহমান কাসেমী, যাত্রাবাড়ী পূর্ব থানা আমির ও ঢাকা-৫ আসন কমিটির সহকারী পরিচালক শাহজাহান খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক দীন ইসলাম মিন্টু।
জেইউ/জেডএস