রাজনৈতিকভাবে জামায়াতকে মোকাবিলায় ব্যর্থ একটি দল মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনায় একটি দলের সম্পৃক্ততা রয়েছে উল্লেখ করে দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, মনে হচ্ছে যে তারা সাহস হারিয়ে ফেলেছেন। জনগণের সমর্থন তারা পাবেন না। এজন্য এ ধরণের আগ্রাসী ভূমিকা তারা পালন করছেন।
তিনি বলেন, একদল লোক রাজনৈতিকভাবে জামায়াতে ইসলামীকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে একের পর এক মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ কথাগুলো বলেন। তবে তিনি কোনো দলের নাম উচ্চারণ করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার অপেক্ষা করছে। সারা দেশে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তবে একইসঙ্গে জামায়াতের প্রার্থী, নেতা-কর্মী, এজেন্টদের ওপর হামলা হচ্ছে। জামায়াতের অফিসগুলোতে হামলা করা হচ্ছে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, একদল সন্ত্রাসী মনে হচ্ছে যে ভোটের এই পরিবেশকে নষ্ট করার জন্য, শান্তিপূর্ণ-সুন্দর পরিবেশকে নষ্ট করে একটি অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করা এবং জনগণকে সুন্দর-শান্তিপূর্ণভাবে যাতে তারা ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারেন, এ ধরণের একের পর এক ঘটনা তারা ঘটাচ্ছেন।
মঙ্গলবার রাতে জামায়াত আমিরের আসনে নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ঢাকা-১৫ আসনে প্রতিদিনই কিছু না কিছু ঘটছে। গতকাল সেই আসনে জামায়াত টাকা বিলি করছে ও বিকাশ নম্বর নিচ্ছে- এমন তথ্য দিয়ে লিফলেট বানিয়ে সেগুলো ছড়ানো হয়েছে। আমিরসহ সার্বিকভাবে জামায়াতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একদল অসৎ লোক এসব চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করছে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, গতকাল পাবনা সদরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে মাইকিং করা হয়েছে। সেখানে কিছু মানুষের নাম উল্লেখ করে তাদের যেখানে পাওয়া যাবে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে বলা হয়েছে। যাদের কথা বলা হচ্ছে, তারা জামায়াতের কর্মী এবং নির্বাচনী এজেন্ট হতে যাচ্ছেন। এভাবে তাদের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার হীন প্রয়াস দেখা যাচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সেভাবে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এধরনের নেক্কারজনক কাজ করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে যারা এগুলো করছে, তাদের তদন্ত করে খুঁজে বের করতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। গণমাধ্যমে জামায়াত সংক্রান্ত সব খবর আসছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, গতকাল মৌলভীবাজার-১ আসনের প্রার্থী ও নির্বাচন পরিচালকসহ নেতা-কর্মীদের ওপর বিএনপির প্রার্থীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। যাদের সবাই সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ বিষয়ে মামলা করা হয়েছে। তার আগের দিন মৌলভীবাজার-৩ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এছাড়া বরগুনাতে নেতা-কর্মী, নির্বাচনী এজেন্টদের ওপর হামলা হয়েছে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির পক্ষে ভোট না দিলে ভোটারদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী।
এটিকে সুনির্দিষ্ট ক্রিমিনাল অফেন্স উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটের সময়ে এরকম হুমকি কেউ দিতে পারেন না। সেখানে জুডিশিয়াল ইনকোয়েরি কমিটি, রিটার্নিং কর্মকর্তারা আছেন। তারপরও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, মনে হচ্ছে যে, প্রশাসনের একটা অংশ যে কোনোভাবেই হোক, যেকোনো কারণে হোক তারা একদিকে হেলে পড়েছেন। একটা দলকে অন্যায়ভাবে, অন্যায্যভাবে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাগুলো দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছেন।
তিনি বলেন, আমরা এটাও সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই যে, অতীতে গত সাড়ে ১৬ বছর যে ইলেকশনগুলো হয়েছে, সাড়ে ১৫-১৬ বছর, যারা এগুলো করেছেন, তারা অন্যায় করেছিলেন। এই নির্বাচনগুলো গ্রহণযোগ্য হয়নি এবং যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন গত সাড়ে ১৫-১৬ বছর ইলেকশনে তাদেরকে জনগণ লাল কার্ড দেখিয়েছে। এই নির্বাচনী কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যারা আছেন আমরা অনুরোধ জানাব যে, জনরোষের সামনে আপনাদের এক সময় পড়তে হতে পারে। কোনো অবস্থায়ই আপনারা আপনাদের নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে আপনারা সরবেন না।
একদল লোক রাজনৈতিকভাবে জামায়াতে ইসলামীকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে একের পর এক মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, নারীরা প্রচারণায় গেলে বাধা দেওয়া হচ্ছে, হামলা হচ্ছে। উল্টো নারীদের বিষয়ে জামায়াতকে জড়িয়ে বিভিন্ন কথা ছড়ানো হচ্ছে। এটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে এগুলো সাজানো ঘটনা। একটা ঘটনা ঘটলে এক জায়গা থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হচ্ছে, এরপর নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যভুক্ত দলগুলোর সামগ্রিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটি দল, একদল লোক কাজগুলো করছেন। এটা সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা নয়।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত অতীতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছিল। সামনে কেউ ফ্যাসিবাদী আচরণ করতে চাইলে, নাটক সাজিয়ে নির্বাচন বানচাল করতে চাইলে সেটি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করা হবে।
নির্বাচনের দিন হামলা, বাধা-বিপত্তি আসলে কিভাবে মোকাবিলা করা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অতীতের মতো সব চক্রান্ত মোকাবিলা করা হবে। দৃঢ়তার সঙ্গে মাঠে থাকা হবে। মাথা নত করা হবে না।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, প্রশাসনিক কিছু কাজ এবং মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে জামায়াতের সম্মান-মর্যাদা নষ্ট এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা অতীতে ফ্যাসিবাদের দোসরেরা করেছিল। নতুন করে কেউ একই কাজ করলে তারাও ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত হবেন।
এ ধরণের চেষ্টা করলে জনগণ সেটি রুখে দিবে উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, এ ধরণের কোনো যদি চেষ্টা কেউ করেন ২০০৮ মতো হোক আর ২০১৪ মতো হোক আর ২০১৮ এর মতো হোক আর ২০২৪ এর মতো হোক, বাংলাদেশ এখন আর এ অবস্থায় নেই। চব্বিশের বাংলাদেশ, চব্বিশের পাঁচ আগস্টের বাংলাদেশ কমপ্লিটলি চেঞ্জ হয়ে গেছে। সুতরাং এখানে এ ধরণের কোনো যদি অপচেষ্টা কেউ করেন, তাদের জন্য জনগণ প্রস্তুত আছেন, প্রস্তুত থাকবেন।
জেইউ/এমএসএ