বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘ অপেক্ষায় ছিল আমাদের যুবসমাজ। গত ১৭ বছর যুবকরা ভোট দিতেই পারেনি, আমিও পারি নাই। আজকের ভোটটা সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হোক।
বিজ্ঞাপন
ভোট দিতে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে মিরপুর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন তিনি। ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ১৭ বছর ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি, আমিও ভোট দিতে পারি নাই। ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সালে ভোটাধিকার হারানোর পর আজকে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। আমি মহান রব্বুল আলামিনের শুকরিয়া আদায় করি।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা এই ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটা নতুন সূচনা করে দিন সেটা দোয়া করি। আমি বিশ্বাস করি শুধু আমি না, সবাই বিশ্বাস করে, যুব সমাজ যারা জীবনে একটা ভোটও দিতে পারে নাই, তারা আজকের এই ভোটের জন্য অপেক্ষায় ছিল। এই ভোটটা শান্তিপূর্ণ হোক, সুষ্ঠু হোক এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক।
তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে আগামীতে এমন সরকার গঠিত হোক যে সরকার কোন ব্যক্তি, পরিবার, দলের হবে না। বরঞ্চ যে সরকার হবে ১৮ কোটি মানুষের জনগণের সরকার আমরা সেই সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী।

বিজ্ঞাপন
জামায়াত আমির বলেন, দেশ আমাদের সকলের এই দেশটা গড়তে হবে সকলে মিলে হাতে হাত মিলিয়ে। মিডিয়া একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকে। এটা জানেন যে মিডিয়া সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। এই চতুর্থ স্তম্ভকে আমরা দেশ করার কাজে আমাদের পাশে চাই। আপনাদের ভালোবাসার আমরা অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষী। আমরা আকাঙ্ক্ষা করি আপনাদের ভালোবাসা পাবো এবং আগামী দিনগুলোতে ইনশাআল্লাহ আমরা দেশড়ার কাজে হাতে হাত মিলিয়ে কাজে হাত মিলিয়ে একসঙ্গেই আমরা চলবো।
এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, সারাদেশে ছোটখাটো কিছু ঘটলে অবশ্যই এগুলাকে ইগনোর করবো। কিন্তু বড় কোনো বিষয় হলে আমরা ছাড় দিবো না এবং আমাদের যা করা প্রয়োজন তাই করবো।
তিনি বলেন, মানুষের ভোটের অধিকার হারিয়ে যায় এটা আমরা কোনোভাবেই চাই না। আমরা চাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে রেজাল্ট যেটা হবে সেটা আমরাও মানবো, অন্যদেরকেও মানতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা এটা চাই।
দেশবাসীর ভোট কামনা করে তিনি বলেন, সারা দেশবাসী প্রত্যেকটা ভোট শান্তিপূর্ণভাবে নিরাপদে, নিঃসঙ্কোচে নিশ্চিতে যাতে সবাই দিতে পারে, নারী পুরুষ সবাই মিলে এজন্য আমি সকলের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। সবাই আসুন ঘর থেকে বেরিয়ে এসে এবং রাষ্ট্রের আপনি গর্বিত অংশীদার হোন এবং আপনার দায়িত্বটাও পালন করুন।
অনেক জায়গায় ঝামেলা হচ্ছে, গণমাধ্যমে একপেশে খবর হচ্ছে। আপনারা কিভাবে দেখছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিডিয়া এক ধরনের নিউজ সবাই পরিবেশন করে না। মিডিয়ার মধ্যেও একই নিউজ ভিন্নভাবে পরিবেশন হচ্ছে। কেউ যদি অপরাধ করে থাকে সে আমি হলেও আমি অপরাধের বিপক্ষে। কিন্তু অপরাধ নয় সেটাকে আবার জোর করে অপরাধ বানানো সেটা আরেকটা বড় অপরাধ। সেটা আছে আমাদের এখানে।
বিএনপির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেনো, বিএনপিও করছে আমরাও করছি। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।
জেইউ/এমএসএ
