হেরে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর হাইপ্রোফাইল যে প্রার্থীরা

অনুষ্ঠিত বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আলোচিত কয়েকজন হাইপ্রোফাইল প্রার্থী। তাদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি গোলাম পরওয়ার ও সহকারি সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আজাদ। তাদের হারে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেটিজেনরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
তবে হেরেও ইতিবাচক দিক হলো জামায়াতের প্রার্থীদের কেউ কেউ বিজয়ী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছেন।
ঢাকা পোস্টের তথ্য মতে, বেসরকারিভাবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পেয়েছে ২০৯ আসন, জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮ আসন, এনসিপি ৬টি আসনে বিজয় লাভ করেছে।
হারলেন জামায়াতের হাইপ্রোফাইল যে প্রার্থীরা
খুলনা-৫ আসনে নির্বাচনে ২ হাজার ৬শ ৮ ভোটে হেরে গেছেন সাবেক সংসদ সদস্য, জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বিএনপির আলি আসগর লবি ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) হেরে গেছেন মোহাম্মদ শিশির মনির। শিশির মনির সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি। এই আসনে জয় লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী। তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে শিশির মনির।
শিশির মনির ফেসবুকে এক পোস্ট লেখেন, ‘আমার আসনে বিজয়ী ধানের শীষ প্রার্থী জনাব নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন। আপনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা।’
হেরে গেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আজাদও। কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতবদিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদের কাছে হেরেছেন তিনি। আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোট। আর হামিদুর রহমান আযাদ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট। ১২৪ কেন্দ্রের প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে এই ফল জানা গেছে।
ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সহজে জিততে দেননি জামায়াতের আলোচিত প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান। দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনায় হাইপ্রোফাইল না হলেও তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন তিনি। পাঁচটা থানা মিলে ঢাকা-১৭ আসনে তিন থানাতেই ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন তারেক রহমান। ভাষানটেক থানার ২২ কেন্দ্রে ৮৪০, পল্লবী থানার ৪ কেন্দ্রে ১৭৫৯ এবং ক্যান্টেনমেন্ট থানার ৩০ কেন্দ্রে ২৭১৩ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে ডা. খালিদুজ্জামান ঢাকা-১৭ আসনের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি লিখেছেন, “নির্বাচনের ফলাফল আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী না এলেও, আমি গভীর কৃতজ্ঞতা ও সম্মানের সঙ্গে আপনাদের সবার প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অল্প সময়ের মধ্যে যে ভালোবাসা, সমর্থন ও আস্থা আপনারা একজন ‘চিকিৎসক’ খালিদকে এবং আমার সংগঠনকে দিয়েছেন; এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
তিনি ত্যাগী নেতা সমর্থকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজ ফলাফল যাই হোক, মানুষের আস্থা অর্জনের যে যাত্রা শুরু হয়েছে; তা থামবে না। যারা কষ্ট করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে সিল দিয়ে আমাদের ভালোবাসা প্রদর্শন করেছেন, সেটাই হবে আগামী দিনের জন্য আমাদের সবচাইতে বড় পুঁজি। আমাদের আরও গোছালো হতে হবে, আরও দক্ষ হতে হবে, আরও বেশি বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মুমিনদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। মহান আল্লাহ কখনো পরিশ্রম ও নিয়তকে বিফল করেন না।
বিজয়ী প্রার্থী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, বিজয় মানে কথা রাখা আর প্রত্যাশা পূরণের এক মহা পরীক্ষার সূচনা। আমি আশা করি- তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন। আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষ কোনো সহযোগিতা করতে পারলে তা হবে আমার সৌভাগ্য। আমরা গঠনমূলক সমালোচনা ও জনগণের স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবো। আপনাদের ভালোবাসা আমার শক্তি। যোগ-বিয়োগের খেলায় আমি হেরে গেলেও আপনারাই বিজয়ী হয়েছেন। আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো– ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল রাখুন।”
জেইউ/এনএফ