কর্ণফুলীতে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ : ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে জামায়াত–বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন এক যুবদল নেতা। এতে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ ১০–১৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে কর্ণফুলি উপজেলা থানায় উপজেলা যুবদলের সদস্য মো. সাহেদুল আলম টিটু এ মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বড়উঠান ফাজিল খার হাট এলাকায় বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ ভর্তি করা হয়েছে।
বিএনপির দাবি, সংঘর্ষে উপজেলা যুবদলের সদস্য সাহেদুল আলম টিটু, বড়উঠান ইউনিয়ন কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনজুর, যুবদল নেতা মো. ইমন, বড়উঠান ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফারুকসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আরও কয়েকজন বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম মেম্বার জানান, তাদের অন্তত চারজন নেতাকর্মী চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন। যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদুল ইসলাম শামীম দাবি করেন, ভোটের দিনের বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।
মামলার এজাহারে টিটু উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দৌলতপুর দীঘির পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের দিন জামায়াতের নেতাকর্মীরা হিন্দু ভোটারদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আলমগীর (৩৪), মামুন (১৯), বাহাদুর খান (৫০), মুন্না (২২), আবরার (২২), সালাউদ্দিন (৩০), ফয়সাল (২০), এনাম (৩২), জাকারিয়া (২৬) ও তানভির (২৪)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, তাদের কর্মী মো. এনাম, মামুন, আলমগীর, জাকারিয়া ও সালাউদ্দিন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে এনামের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এছাড়া আবরার, জোবাঈর, দিদার, সেলিম, মোরশেদ, ফয়সাল মহিউদ্দিন ও তামিমসহ আরও কয়েকজন আহত হলেও তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মনির আবছার চৌধুরী ও সেক্রেটারি নুর উদ্দিন জাহাঙ্গীর এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, শুক্রবার স্থানীয় বিএনপির লোকজন জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালায়।
পরে বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে ফাজিল খার হাট বাজারে গেলে যুবদল নেতা টিটুর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় হামলা করা হয়। পাশাপাশি জামায়াত নেতাকর্মীদের ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগও তোলা হয়।
কর্ণফুলি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম জানান, বড়উঠানে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মামলার আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
আরএমএন/জেডএস