আওয়ামী লীগের হাতে সহযোদ্ধাদের রক্ত ঝরলে তার দায় বিএনপিকে নিতে হবে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে রাজপথে নামা আমাদের কোনো সহযোদ্ধাকে যদি আওয়ামী লীগের হাতে পুনরায় খুন হতে হয় কিংবা রক্ত দিতে হয়, তবে তার দায় তারেক রহমান এবং বিএনপিকে নিতে হবে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষ্যে আজ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সেখানকার একটি ছবি পোস্ট করে সারজিস আলম লেখেন, এটাই ছিল ২০২৬ সালের নির্বাচনের চিত্র! বিএনপি যখন মাঠ পর্যায়ে গিয়ে দেখল যে এককভাবে তারা কখনোই জাতীয় নির্বাচনে জিততে পারবে না এবং সরকার গঠন করা সম্ভব হবে না, তখন তারা আওয়ামী লীগের দ্বারস্থ হলো। প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে গোপনে বৈঠক করলো। তারা যত বড় অপরাধীই হোক না কেন, তাদেরকে জামিন করানো কিংবা সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিল।
তিনি লিখেছেন, ফলে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, প্রশাসনের একাংশ এবং দেশি-বিদেশি কিছু এজেন্ট মিলে এই নির্বাচন করল এবং ক্ষেত্রবিশেষে ইঞ্জিনিয়ারিং করে সরকার গঠন করলো। যে আওয়ামী লীগ পরিকল্পনা করে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, আমার সেনাবাহিনীর অফিসারদের খুন করেছে, সেই আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতিকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ বীরদের শ্রদ্ধা জানানো পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে মশকরা করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

সারজিস আলম আরও উল্লেখ করেন, যে আওয়ামী লীগ তারেক রহমানকে বাধ্যতামূলক নির্বাসনে পাঠিয়েছিল, ১৭ বছর দেশে আসতে দেয়নি, বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জেলে রেখেছিল, তার শরীরে বিষপ্রয়োগ করেছিল এবং হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মীকে নির্যাতন করে ঘরছাড়া করেছিল— সেই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের দায়িত্ব আজ বিএনপি নিয়েছে। বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে রাখবেন, সময়ের পরিক্রমায় আপনারা যদি আবার আওয়ামী লীগের দ্বারা নির্যাতিত-নিপীড়িত হন, তবে তার দায় আপনাদের নেতা তারেক রহমানকে নিতে হবে।
তিনি আরও লিখেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে রাজপথে নামা আমাদের কোনো সহযোদ্ধাকে যদি আওয়ামী লীগের কারণে পুনরায় খুন হতে হয় বা রক্ত দিতে হয়, তবে তার দায় তারেক রহমান ও বিএনপিকেই নিতে হবে। তারেক রহমানকে আজকের এই পদক্ষেপের জন্য ধিক্কার জানাই।
এমএসআই/এমএসএ