নরসিংদীতে কিশোরী হত্যাকাণ্ডে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

নরসিংদীর সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি সরিষাক্ষেত থেকে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর শোক, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, একটি কিশোরী ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় তাকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে- এটি কেবল একটি পরিবার নয়, সমগ্র জাতির জন্য লজ্জা ও আতঙ্কের বিষয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের নীরবতা ও প্রশ্রয়ই এমন নৃশংসতার জন্ম দেয়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ধর্ষক ও খুনিদের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় থাকতে পারে না; তারা কেবল অপরাধী।
নেতারা বলেন, অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। জড়িত সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিচারপ্রার্থীদের ভয়ভীতি ও সামাজিক চাপে ফেলে আপস-মীমাংসার সংস্কৃতি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এবি পার্টি মনে করে, নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে বিচারহীনতা চলতে থাকলে সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা ভেঙে পড়বে। একটি সভ্য রাষ্ট্রে কোনো কিশোরীকে ন্যায়বিচার চাওয়ার অপরাধে প্রাণ দিতে হবে—এটি কখনো মেনে নেওয়া যায় না।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা নিহত কিশোরীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। একইসঙ্গে সরকারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন তরুণ ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরিবার বিচার চেয়ে মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানের দ্বারস্থ হলেও তারা ন্যায়বিচার পায়নি। বরং অভিযোগ করার কারণে অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে অপহরণ ও পরবর্তীতে নির্মম হত্যার পথ বেছে নেয়।
এএসএস/এমএসএ