স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অংশ হিসেবে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজেদের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বিজ্ঞাপন
রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ ঘোষণা দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে লড়বেন দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব।
এছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী করা হয়েছে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামকে। সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে লড়বেন সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল। আর রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগরের আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী।
বিজ্ঞাপন
প্রার্থী ঘোষণার পাশাপাশি বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের যে বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের মানুষ নাগরিক সেবা পাচ্ছে না এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই একটা বড় সময় কিন্তু স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি নেই, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। আমরা উল্টো দেখলাম এই নতুন যে সরকার আসলো সেই সরকার এসে তারা সব জায়গায় প্রশাসক বসিয়ে দিল। সবগুলো সিটি কর্পোরেশনে জেলা পরিষদে তারা প্রশাসক বসিয়ে দিল। যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যখন প্রশাসক বসানো হয়েছিল তখন কিন্তু তারাই বিরোধিতা করেছি। এখন তাদের সরকারের সময় সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে? এবং বাস্তবতা। এটাই আসলে আমরা সংসদে কথা বলার জায়গা পাচ্ছি না। আপনারাই আমাদের শেষ ভরসা। তো আমরা যেটা বুঝতে পারছি যে এই নতুন সরকার যেমন বাংলাদেশের সবগুলো প্রতিষ্ঠান কুক্ষিগত করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে দুদক সবগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান একইভাবে স্থানীয় সরকার যে প্রতিষ্ঠানটা যেটার সংস্কার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সেটাকেও তারা দলীয়করণ করে ফেলেছে, কুক্ষিত করছে।
তিনি আরও বলেন, এই পর্যায় থেকে অতি দ্রুত আমাদের বের হতে হবে এবং বের হওয়ার জন্য অতি দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
আজকে আমরা সেই দাবিটা এখানে রাখলাম যে আগামী ৬ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে আমরা মনে করি সব পর্যায়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে দেওয়া সম্ভব। দিয়ে দেওয়া উচিত এবং যারা প্রশাসক হিসেবে বসেছে তারা যাতে কোনোভাবেই সেই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে। এই ধরনের বিধিবিধান আসলে থাকা উচিত। এছাড়া নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে আবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হলে সেই নির্বাচন লেভেল ক্লিন ফিল্ড থাকবে কিনা এটা আমাদের মনে শঙ্কা আছে। কারণ এই নির্বাচন কমিশনের প্রতি যথেষ্ট অনাস্থা তৈরি হয়েছে জাতীয় নির্বাচনে যেভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় তিন ঘণ্টা ফলাফল সব কেন্দ্রে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন তারা কীভাবে করবে? সে বিষয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ২৪ এর অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতা কাঠামোতে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ২৪ এর অভ্যুত্থানে শুধু হাসিনা পালিয়ে গেছে ব্যাপারটা এমন নয়। আমরা দেখেছি যে ২৪ এর অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে জাতীয় মসজিদের যিনি ইমাম তিনিও পালিয়ে গিয়েছেন।
তিনি বলেন, এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার যে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সেটা একেবারে ভঙ্গুর একটা অবস্থার দিকে চলে গিয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে এখন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার মতো সব ধরনের পরিবেশ, সব ধরনের সুযোগ সুবিধা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা সব কিছুই সরকারের হাতে অবধারিতভাবে এখন রয়েছে। কিন্তু আমরা তারপরেও খেয়াল করে দেখছি যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এখনো পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট রোড সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয় নাই। এই ঘোষণা না করার মধ্য দিয়ে দুই ধরনের কাজ করা হচ্ছে। এক যারা সাধারণ নাগরিক আছেন তাদের নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমাদের নাগরিকরা তারা স্থানীয় সরকারদের প্রতিনিধির কাছ থেকে যে ধরনের নাগরিক সেবা নাগরিক সেবাগুলো চূড়ান্ত বিঘ্ন করছে। দুই এই সুযোগে বিএনপি সরকার তারা ক্ষমতায় এসে স্থানীয় যে প্রতিনিধিত্বের জায়গাগুলো রয়েছে দলীয় লোকদেরকে দিয়ে সেগুলোতে কবজা করার তারা পরিকল্পনা তারা এটেছে এবং সেই পরিকল্পনার মতোই তারা সামনের দিনে কাজ করে যাচ্ছে।
আখতার হোসেন বলেন, আমরা দেখেছি যে বাংলাদেশে যে সিটি কর্পোরেশনগুলোতে প্রশাসক দেওয়া হয়েছে সবাই তারা তাদের দলীয় লোক। জেলা পরিষদ গুলোতে যে প্রশাসক দেওয়া হয়েছে সবাই বিএনপির লোক। তারা দলীয় লোক পদধারী লোক। যদি এরকম ধরনের একটা ব্যবস্থাও করা হতো যে যারা নিরপেক্ষ ব্যক্তি আছেন যারা রাজনীতি নিরপেক্ষ ব্যক্তি তাদেরও যদি নিয়োগ দেওয়া হতো অথবা প্রশাসনের মন্ত্রী যারা পদরত আছেন তাদের মধ্য থেকেও যদি নিয়োগ দেওয়া হতো তা করেও তারা যে কিছুটা হলেও নিরপেক্ষতা রাখার কথা ভাবছে জনগণের সেবাটাই যে তাদের কাছে মুখ সে বিষয়টা আমাদের কাছে কিছুটা হলেও ধরা পড়তো কিন্তু জনগণের সেবা তাদের কাছে মুখ্য নয়।
এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, বর্তমানে বিএনপি সরকার তাদের জায়গা থেকে সিটি করপোরেশনে এবং জেলা পরিষদে প্রশাসন নিয়োগ দিয়েছেন। এর পূর্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যখন এক দুইজন প্রশাসকও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছিল তখন নাকি সকল ধরনের গণতন্ত্র ব্যাহত হয়ে যাচ্ছিল। এবং সব ধরনের গণতান্ত্রিক উত্তরণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছিল। এটা ছিল বিএনপির ভাষ্য। কিন্তু তারা নির্বাচিত হওয়ার পরে সেই গণতান্ত্রিক উত্তরণের নির্বাচনের প্রক্রিয়া না গিয়ে প্রশাসন নিয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার যে প্রচেষ্টা দেখাচ্ছে এটা হচ্ছে স্বৈরাচারের পথে হাঁটার একটা নীল নকশা। ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার একটা নীল নকশা এবং নিজের পছন্দের মানুষদের পরবর্তীতে নির্বাচিত করার একটা ষড়যন্ত্র।
তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে যাদের যেখানে প্রশাসক পদে দেওয়া হচ্ছে তারা যেন সেই জায়গায় নির্বাচন না করতে পারে এই জায়গাটিতে আমাদের সুস্পষ্ট অবস্থান থাকবে এবং সারা বাংলাদেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নির্বাচনে বজায় রাখার জন্য আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যে অধ্যাদেশ করা হয়েছিল, যে স্থানীয় নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না। স্থানীয় নির্বাচনে সেই নিয়ম, সে অধ্যাদেশ মেনে স্থানীয় নির্বাচন হতে হবে।
এএএম/এমএন
