বিজ্ঞাপন

মুর্শিদাবাদে ৩৪৬ মুসলিমের নাগরিকত্ব বাতিলে বিপ্লবী পরিষদের নিন্দা

অ+
অ-
মুর্শিদাবাদে ৩৪৬ মুসলিমের নাগরিকত্ব বাতিলে বিপ্লবী পরিষদের নিন্দা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলায় ৩৪৬ জন মুসলিম নাগরিকের ভোটাধিকার হরণ করে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। দলটি এ ঘটনাকে প্রতিবেশী ভারতের মুসলমানদের ওপর পরিচালিত ব্যাপকভিত্তিক জাতিগত নিপীড়নের অংশ বলে আখ্যায়িত করেছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক বিবৃতিতে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেন, সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলায় শত শত বছর ধরে বসবাস করা পরিবারের সন্তান ৩৩৬ জন মুসলিম নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে বলা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের এই পদক্ষেপকে বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ঘটনা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এটি ভারতের মুসলিম জাতিকে চিহ্নিত করে তাদের নাগরিক অধিকার সংকুচিত এবং রাষ্ট্রহীনতার দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি কাঠামোগত ও পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার অংশ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

মুর্শিদাবাদে নাগরিকত্ব বাতিলের ফলে সংশ্লিষ্ট ৩৪৬ জন মুসলমানের পরিবার রাষ্ট্রহীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় তাদের আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। তারা সব মৌলিক নাগরিক অধিকার এবং সেবাসমূহ থেকে বঞ্চিত হয়ে গেছে।

বিবৃতিতে ৩৪৬ জন মুসলিম নাগরিকের ভোটাধিকার ফেরত দেওয়ার দাবি জানান জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান। তিনি বলেন, এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার অভ্যন্তরীণ ঘটনা হলেও ধর্মীয় জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মুসলমানদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করায় এটি একটি অভ্যন্তরীণ সংকটে সীমাবদ্ধ নেই। এটি প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে। বাংলাদেশের মুসলমানেরা ভারতের হিন্দুত্ববাদী নিপীড়নের ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে একের পর এক ভারতের মুসলমানদের নাগরিকত্ব হরণ আন্তর্জাতিক বৈষম্যবিরোধী কনভেনশনগুলোর পরিপন্থি। এর মাধ্যমে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত প্রত্যেক ব্যক্তির জাতীয়তার অধিকার এবং স্বেচ্ছাচারীভাবে কাউকে নাগরিকত্ব বঞ্চিত না করার নিশ্চয়তা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

ওএফএ/এমএন