বিজ্ঞাপন

সেমিনারে ব্যারিস্টার ফুয়াদ

‘পৃথিবীতে জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কোথাও কোনো সংবিধান হয় নাই’

অ+
অ-
‘পৃথিবীতে জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কোথাও কোনো সংবিধান হয় নাই’

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, এখন আমাদের কতগুলো ট্যাগ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আমরা স্বাধীনতা বিরোধী, ৭২ এর সংবিধানকে আমরা ছুড়ে ফেলে দিতে চাই, আমরা মুক্তির লড়াই ৭১ এর যেই স্বাধীনতা সংগ্রামকে ছোট করতে চাই। অথচ ৭২ এর সংবিধানে গাঠনিক ক্রাইসিস আছে। প্রশ্ন ৭২ এর সংবিধান কারা তৈরি করেছেন?

বিজ্ঞাপন

তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আপনাদের ঘরের, অফিসের ও গাড়ির দরজায় শেখ হাসিনার পালানোর ছবিটা লেমিনেটিং করে ঝুলিয়ে রাখবেন। আপনাদেরও ওই ছবির প্লেসমেন্ট করা লাগতে পারে। জাস্ট ম্যাটার অব টাইম। নো ইফ, নো বাটস। 

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি : সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক সেমিনারে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি, নূরুল ইসলাম। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবির সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা।

বিজ্ঞাপন

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তাহসিন রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (জাকসু) জিএস মাজহারুল ইসলাম।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল যে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়েছিল সেখানে আমাদের আকাঙ্ক্ষার কথা পরিষ্কার করে বলা ছিল, আসলে আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই। ফ্রি অ্যান্ড ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকের কথা বলা আছে। যেটাতে বলা ছিল যে তিনটা মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে এই বাংলাদেশ নামক নতুন প্রজাতন্ত্র পরিচালিত হবে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার। অথচ দেখেন সেই বাংলাদেশটা, যেই বাংলাদেশের ঘোষণাপত্রের আলোকে হাজার-হাজার, লাখ-লাখ মানুষ মুক্তির লড়াইয়ে নেমে গিয়েছিল। আমার বাবার মতো জীবন-যৌবনকে ত্যাগ করে। তারা আসলে কেমন বাংলাদেশ পেয়েছিল?

৭২ এর সংবিধানে গাঠনিক একটা ক্রাইসিস আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি গণপরিষদের সদস্যদের তালিকা দেখেন তাদের অলমোস্ট প্রায় সবাই হচ্ছে ৭০ এর পাকিস্তানের যে লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডিন্যান্স ছিল ইলেকশনের ফ্রেমওয়ার্কের অর্ডিনান্সের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তাদের আসলে ওয়াদা ছিল পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র ও সংবিধানকে মান্য করবেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের সংবিধান, পাকিস্তান স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে লালন পালন করবার জন্য যারা ওয়াদাবদ্ধ ছিলেন তারা কি আসলে একটা নতুন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন করার জন্য সম্মতি দিতে পারেন?

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, যেই সংবিধানটার সম্মতি জনগণের কাছ থেকে নেওয়া হয় নাই সেই সংবিধানটার খতনা করতে পারতেন আরেকবার। ৭৩ এর মার্চ মাসের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ইলেকশন ম্যান্ডেট নিতে পারতো। সেই ম্যান্ডেটটাও নেওয়া হয় নাই ৭৩ এর নির্বাচনে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ৫৬ বছর পরেও থার্ড জেনারেশনের উপরে চাপিয়ে দিচ্ছেন, যেটার গাঠনিক প্রক্রিয়াটা সঠিক ছিল না, জনগণের সম্মতিও নেওয়া হয় নাই স্বাধীন দেশে। পৃথিবীতে জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কোথাও কোনদিন কোনো সংবিধান হয় নাই। 

তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধে। ভারত-পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সেটা পাবেন না। এজন্যই গাঠনিক প্রক্রিয়ার জায়গায় ৭২ এর সংবিধানটা প্রবলেম্যাটিক। ঘোষণাপত্রে লেখা ছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্রটা তিনটা মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। ৭২ এর সংবিধানে নতুন করে চারটা মূলনীতি দিলেন। আমাদের কারও কাছে জানা ছিল না যে চারটা জিনিস কোথায় থেকে এলো? ৭০ এর আওয়ামী লীগের ইলেকশন ম্যান্ডেটেও ছিল না। আওয়ামী লীগের দলীয় কনস্টিটিউশনেও ছিল না। ৭১ এর যুদ্ধে ঘোষণাপত্রে অথবা ৭১ এর কোনো কনভারসেশনেও ছিল না। হঠাৎ করে ৭২ সালে এই চারটা মূলনীতি কোত্থেকে আসলো? এই প্রত্যেকটা মূলনীতি সম্পূর্ণ বিরোধী।

তিনি বলেন, আপনি গণতন্ত্র রাখবেন, আবার সমাজতন্ত্র রাখবেন। ৭২ এর সংবিধানে গণতন্ত্র ছিল কিন্তু ৭৩ এর নির্বাচনে তো আমরা গণতন্ত্র দেখি নাই। ২৯৩ টা সিট পাওয়ার পরে শেখ মুজিব বঙ্গভবনে দাঁড়ায়া বলেছে আজকে দেশে কোন বিরোধী দল নাই। বিরোধী দল না থাকাটা কি দেশের জন্য কোন ক্রেডিট? গণতন্ত্রের জন্য ক্রেডিট? জাসদের শত শত এমপি ক্যান্ডিডেটকে পিটায়া এলাকা ছাড়া করে দিয়েছে। কয়েক ডজনকে হত্যা করেছে। ইলেকশন করতে দেয় নাই। তাহলে আপনারা কেন কিসের জন্য বললেন গণতন্ত্রের কথা? এটাই তো মুক্তির লড়াইতে ছিল। আপনি বলছেন যে সমাজতন্ত্র থাকবে। আবার বলছেন যে গণতন্ত্র থাকবে। গণতন্ত্রের সাথে তো উদার নৈতিক ক্যাপিটালিজম পুঁজিবাদী সমাজের বৈশিষ্ট্য আছে। ৭২ এর সংবিধান আমার মুক্তির লড়াইয়ের প্রত্যেকটা আকাঙ্ক্ষার সাথে বেইমানি করেছে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, শেখ মুজিব বেঁচে থাকা অবস্থায় চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে তারা শুধুমাত্র একটা জাতীয় দল করেছে সোভিয়েত ইউনিয়নের মডেলে, জাতীয় দল। আওয়ামী লীগ কি অভিশপ্ত একটা দল! নিজের দলটাকে পর্যন্ত বিলুপ্ত করে দিয়েছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশের পতিত পলিউটেড বাম সিপিবিরা জড়িত ছিল। তারা সবাই শেখ মুজিবকে মিসগাইড করেছে বাকশাল কায়েম করার জন্য। সব পত্রিকা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল একটা ঘোষণা দিয়ে।

তিনি আরও বলেন, রক্ষী বাহিনী তৈরি করে ইনডেমটিফাই করা হয়েছে যে রক্ষী বাহিনীর কোনো অন্যায় অবিচার ফৌজদারী অপরাধ, কোনো আদালতে উত্থাপন করা যাবে না, চ্যালেঞ্জ করা যাবে না, সেই রক্ষী বাহিনীর সদস্য মাসুদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীরা আবার ওয়ান ইলেভেনের সময় অনেক বড় পদ দেওয়া হয়েছিল। পরে তো তারাই বিএনপিকে...। এই যে বাস্তবতাগুলো, নতুন প্রজন্ম বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আবার ২০২৪ এ মাঠে নেমেছিল এই পুঞ্জীবিত কষ্ট, ক্ষোভ, বঞ্ছনা যে মুক্তির লড়াইয়ের সঙ্গে আমাদের জাতির সঙ্গে বারবার গাদ্দারি করা হয়েছে। এসবের সঙ্গে ৭২ এর সংবিধান প্রবলেম্যাটিক।

তিনি বলেন, একটা কনস্টিটিউশনের একমাত্র প্রিন্সিপল হচ্ছে জনগণ চাইবে বইটাকে ধরবে, মানবে। জনগণ চাইবে না ছুড়ে ফেলে দেবে, শেষ। এটাই হচ্ছে একমাত্র বেসিক ফিচার অব কনস্টিটিউশন। এটার ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের রায় অনুযায়ী এটাকে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাই আমরা বলছি যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটাকে যদি আগামী দিনগুলোতে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় আমার সেই ৭১ এর মুক্তির লড়াই, মাটি, মানুষের মুক্তির লড়াই এবং আমার ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের লড়াই এর প্রত্যেকটা প্রিন্সিপালকে সভরেন উইলের ভেতরে একমোডেট করা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদের মাধ্যমে।  

তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের সক্ষমতা কিন্তু আওয়ামী লীগের ধারে কাছেও না। সেই আওয়ামী লীগকে কিন্তু লেজ গুটিয়ে পালাইতে হইছে। নির্বাচনের পর বিএনপির এক এমপি আমাকে বলছে, যিনি ছয় হুইপের একজন। তিনি বলছেন, শেখ হাসিনার পালানোর ছবি উপহার দেবেন তার নিজের বিভাগের সব এমপিকে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য তিনি বলেন, আপনাদের ঘরের, অফিসের ও গাড়ির দরজায় শেখ হাসিনার পালানোর ছবিটা লেমিনেটিং করে ঝুলিয়ে রাখবেন। আপনাদেরও ওই ছবির প্লেসমেন্ট করা লাগতে পারে। জাস্ট ম্যাটার অব টাইম। নো ইফ, নো বাটস। 

জেইউ/এসএম

বিজ্ঞাপন