বিজ্ঞাপন

ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান

ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্যই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি

অ+
অ-
ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্যই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি

জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও জনগণের ত্যাগের প্রতিফলন ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে একটি পক্ষ ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি বলেন, যে যুক্তিতে জুলাই সনদ বা অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সেই একই যুক্তি শেষ পর্যন্ত জুলাই বিপ্লব, বর্তমান সরকার এবং এই সংসদকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক সেমিনারে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা।

প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, “কাচের ঘরে বসে যদি আপনারা ঢিল ছোড়েন, যেই যুক্তি দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আইনটাকে এখতিয়ার বহির্ভূত বলছেন, সেই একই যুক্তি দিয়ে জুলাই সনদকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে। সেই একই যুক্তি দিয়ে এই সংসদকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে। এই সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে। সর্বোপরি জুলাই বিপ্লবটাকে অস্বীকার করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। যেভাবে আপনারা চাচ্ছেন সেভাবে জুলাই সনদকে আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে। আপনাদের এখতিয়ার নিয়ে আরও বেশি প্রশ্ন করা হবে। সংস্কার পরিষদ অবিলম্বে গঠন করে এর মাধ্যমে সংবিধানকে সংস্কার করে আসুন সকলে মিলে আমরা এই দেশকে জুলাই পরবর্তী যে ত্যাগ এবং তিতিক্ষা জনগণের রয়েছে, যেই স্বপ্ন রয়েছে তার আলোকে নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”

বিজ্ঞাপন

সেমিনারে মোমেন বলেন, “কিছু আইনি প্রশ্ন তোলা হচ্ছে কিন্তু এই আইনি প্রশ্নের সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা কিংবা উত্তর দেওয়া হচ্ছে না। জুলাই সনদ এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে উল্লেখ করে আমি সংসদে বলেছিলাম– রাষ্ট্রপতির আদেশ আইন কি না? আমরা বলেছি, অনেকেই বলেছেন এটা অবশ্যই আইন। সংবিধানকে যদি মানেন তাহলে এটাকে আপনারা আইন হিসেবে মানতে বাধ্য।”

রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণ জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে সংস্কারের প্রশ্নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ম্যান্ডেট দেওয়ার মাধ্যমে এই এখতিয়ার দিয়েছিল। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে পরিষ্কার বলা হয়েছে এই এখতিয়ার মাত্র আদালতের। এই আইনকে যদি বেআইনি ঘোষণা করা না হয়, তার মানে এই আইন মানতে সরকার বাধ্য ছিল। রাষ্ট্রপতি বাধ্য ছিলেন।”

সংবিধান প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মোমেন বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আপনারা কি সংবিধান সংশোধনকে যথেষ্ট মনে করেন নাকি এর জন্য সংস্কার প্রয়োজন? এক্ষেত্রে সংশোধন এবং সংস্কারের বিষয়ে একটি ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। সংসদ চাইলেও টু-থার্ড মেজরিটি থাকলেও সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন আনতে পারেন না। অষ্টম সংশোধনীর মামলার রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বিকেন্দ্রীকরণকে অসাংবিধানিক বলেছিল। এজন্য শুধু সংশোধন করলে হবে না, সংবিধানের সংস্কার করতে হবে।”

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও যোগ করেন, “বলা হচ্ছে আবেগ দিয়ে দেশ চলে না। আমি বলেছিলাম জনগণের আবেগটা হলো সংবিধানের ভাব। সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণের অভিপ্রায়ই প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। আপনাদের কমিটমেন্ট কোথায়? ফ্যাসিবাদী কায়দায় আবার আপনারা কেন সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন? জনগণ এটা জানতে চায়।”

সেমিনারে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন– সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তাহসিন রিয়াজ, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম এবং জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম।

জেইউ/বিআরইউ