বিজ্ঞাপন

ইলিয়াস আলীর গুম-হত্যা বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ

অ+
অ-
ইলিয়াস আলীর গুম-হত্যা বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ

বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীকে গুম ও হত্যার ঘটনাকে চরম নিষ্ঠুরতা ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। এবিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত নোটিশ দেওয়ার জন্য ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীরকে পরামর্শ দিয়েছেন স্পিকার।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচার হওয়া প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে হুইপ দুলু বলেন, ‘আজ একাধিক জাতীয় দৈনিকে ইলিয়াস আলীর গুম নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে এসেছে– বনানী থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়, এরপর সদর দপ্তরে রাখা হয় এবং ধলেশ্বরীতে লাশ ফেলা হয়। এ ঘটনায় যে অপরাধ হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।’

বিজ্ঞাপন

ইলিয়াস আলীর সঙ্গে নিজের স্মৃতির কথা স্মরণ করে দুলু বলেন, ‘ইলিয়াস আলী আপনার (স্পিকারের) সহকর্মী ছিলেন, আমার বন্ধু ছিলেন। তার সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িত। আজকে বেঁচে থাকলে এখানে যারা আমরা সংসদ সদস্য আছি, সবাই একসঙ্গে এই পার্লামেন্টে থাকতাম। আমরা পত্রিকার মাধ্যমে যেটুকু জেনেছি, ১৭ মার্চ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে ইলিয়াসকে হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে দুলু আরও বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, মানুষ কতটুকু নিষ্ঠুর হলে এই কাজটা করতে পারে? আমার মনে হয় পৃথিবীর সমস্ত ইতিহাস এখানে ফেল করবে। কারণ শেখ হাসিনা যে কী ধরনের অভিনেত্রী ছিলেন, তার নির্দেশ ছাড়া এ ঘটনা ঘটেনি।’

হুইপ দুলুর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হৃদয়বিদারক। এটি সারা দেশের বহুল আলোচিত একটি বিষয়। ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী ও সংসদ সদস্য (তাহসিনা রুশদীর লুনা) এখানে উপস্থিত রয়েছেন, তিনিও বিষয়টি সংসদে একবার উত্থাপন করেছেন।’

বিজ্ঞাপন

ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে আইনি ও সংসদীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আমি তাহসিনা রুশদীরকে অনুরোধ জানাব– আপনি যদি এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিতে চান, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত নোটিশ দিতে পারেন। তা ছাড়া এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করার জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে সমসাময়িক ঘটনাগুলোতে ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

ইলিয়াস আলীকে দেশের উদীয়মান ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা আখ্যা দিয়ে স্পিকার আরও বলেন, ‘ইলিয়াস আলী আমাদের অত্যন্ত প্রিয় স্বজন ও এ দেশের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ড এভাবে বিচারহীন (আনপানিশড) থেকে যাবে না। এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই এই সংসদ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।’

এমএসআই/বিআরইউ