বিএনপি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে স্পষ্টত বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে সংবিধানে থাকা স্বৈরতন্ত্রের সুযোগগুলো রহিত করতে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করেছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পথ মাড়িয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপির প্রতি প্রত্যাশা ছিল, তারা ছাত্র-জনতার রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে এই অধ্যাদেশগুলো সংসদে অনুমোদন করিয়ে নেবে। কিন্তু জনতার রক্তের সাথে বে-ইনসাফি করে বিএনপি স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধক হতে পারে এমন সকল অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধনের প্রস্তাব করেছে। এর মাধ্যমে বিএনপিও পতিত স্বৈরতন্ত্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করল।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠা ও তাদের প্রথম মেয়াদের ক্ষমতা সংহত হয়েছে গণভোটের মাধ্যমে। এবারের গণভোটের সিদ্ধান্তও বিএনপিকে সাথে নিয়েই করা হয়েছে। তারেক রহমান নিজেও গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। সেই বিএনপি এখন অতি-সাংবিধানিকতা দেখিয়ে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দুর্বলতার সুযোগে পতিত স্বৈরাচার জাতির ওপরে নির্মম নির্যাতন করেছে। মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করে জারি করা অধ্যাদেশও বিএনপি অনুমোদনের জন্য সংসদে না তুলে পদ্ধতিগতভাবে বাতিল করে দিচ্ছে। একইভাবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশও বিলোপ করার পথে হাঁটছে বিএনপি।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের দুর্বলতার সুযোগে পতিত স্বৈরাচার দেশটা ফোকলা করে ফেলেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করার অধ্যাদেশও লোপ করছে বিএনপি। আর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সরাসরি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আমরা মনে করি, বিএনপি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে স্পষ্টত বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বিএনপি নিজেও যেহেতু পতিত স্বৈরতন্ত্রের নিপীড়নের শিকার, তাই আবারও সরকারকে অনুরোধ করব, জনতার রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না। স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপে জারি করা অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের ব্যবস্থা করুন।
বিজ্ঞাপন
ওএফএ/এমএসএ
