বিজ্ঞাপন

জাগপার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিরোধী দলীয় নেতা

গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করার দিনই নতুন করে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়

অ+
অ-
গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করার দিনই নতুন করে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়

বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেদিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে সেই দিনই নতুন করে আবার বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সংসদ আমাদের জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপলব্ধি, সম্মান করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এই ফ্যাসিবাদের কদম কদম যাত্রা থামিয়ে দেব। আমরা এগোতে দেব না।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সোমবার (৬ এপ্রিল) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি(জাগপা) দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।

সংসদের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে জাগপাকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় জীবনের প্রতিটি সংকটে সবার আগে যার দ্বরাজ কণ্ঠ শোনা যেত তিনি প্রিয় নেতা শফিউল আলম প্রধান। আমাদের আহ্বানের দাওয়াতে শামিল হয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার সেই বক্তব্যকে বিকৃত করে জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে তার বিরুদ্ধেও ধর্ম অবমাননার মামলা করেছিল। সেই মামলায় শফিউল আলম প্রধান আসামি হয়ে আদালতে উঠেছেন, জেলে গিয়েছেন, কষ্ট স্বীকার করেছেন। কিন্তু তিনি অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। এজন্য তিনি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন।

বিজ্ঞাপন

জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ যে সংকটের মুখোমুখি হয়েছে আজকে এরকম মানুষের বড় প্রয়োজন ছিল। যিনি জোর কদমে সামনে এসে বলবে জাতির সঙ্গে যেটা করা হচ্ছে এটা অন্যায়।

তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের প্রায় সবাই মজলুম। এর মধ্যে কেউ জেল কেটেছেন। কেউ ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে এসেছেন। আবার এর মধ্যে কেউ নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। এরকম লোকদেরকে নিয়েই আমাদের বর্তমান সংসদ। এই সংসদ যদি মজলুম জনগণের দুঃখ না বুঝে তাহলে কোন দিন কোন সংসদ বুঝবে? এটি হবে চরম লজ্জা। ৫৪ বছরের দফায় দফায় যে ফ্যাসিবাদ জাতিকে এগিয়ে যেতে দেয়নি, সেই ফ্যাসিবাদকে ২৪ এর বিপ্লবীরা ছুড়ে মেরেছিল বঙ্গোপসাগরের নর্দমায়। এখন সেই নর্দমা থেকে এটাকে তুলে আনতে চায় কারা মনে রাখা দরকার।

তিনি বলেন, এই প্রজন্ম প্রমাণ করে দিয়েছে, এ প্রজন্ম যখন জেগে উঠে তখন মাসের পর মাস আর বছরের বছর আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় না। তখন ওদের বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্তই ফ্যাসিবাদীদের কলিজায় কাফন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আমরা বিশ্বাস করি এই প্রজন্ম যথাযথভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এখনো তাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা তাদের সঙ্গে আছি। তারাও আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা কথা দিচ্ছি রক্তমূল্য, জীবনমূল্য, জেল মূল্য, যত মূল্য দিতে হয় ফ্যাসিবাদকে আর আমরা ফিরে আসতে দেব না। এই লড়াই কোন দলের জন্য নয়, দল বা ব্যক্তির জন্য নয়।

বিজ্ঞাপন

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মদ জায়গায় থাকবে আর শুধু বোতল পরিবর্তন করা হবে এটা আমরা চাই না। আমাদের জেনজিরা একজনকে সরিয়ে আরেকজনকে বসানোর জন্য এখানে আন্দোলন করেনি। ব্যক্তির এবং লিঙ্গের পরিবর্তন করার জন্যই যুদ্ধ করেনি। তারা লড়াই করেছে যে বন্দোবস্ত এই জাতিকে ফ্যাসিবাদের যাতাকলে পিষ্ট করেছিল সেই বন্দোবস্ত পরিবর্তনের জন্য। আমাদের লড়াই তাই।

তিনি বলেন, ন্যায় এবং ইনসাফের ভিত্তিতে একটা দেশ এবং জাতি গঠন করতে হলে একটা দলের নিজের ভেতরে আগে ন্যায় ইনসাফ এবং গণতন্ত্রের চর্চা হতে হবে। যারা নিজের দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা করতে পারে না। যাদের নিজেদের নেতা-কর্মীদের হাতে নিজেদের নেতা-কর্মীরাই নিরাপদ নয়। তারা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তারা জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কেয়ারকেটার সরকার সহজে আসে নাই। ওই রকমই আমাদের আনা বিল ফেলে দেওয়া হয়েছিল। আমরা চেয়েছিলাম সংসদে প্রতিকার, আমাদেরকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলো। আমরা জনগণকে নিয়েই দাবি আদায় করবো। সংসদের ভেতরে ইতিবাচক গঠনমূলক বিতর্কের অবসান চাই। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হোক। সংসদ আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে উপলব্ধি করতে সম্মান করতে ব্যর্থ হয়েছে।

জেইউ/জেডএস

বিজ্ঞাপন