বিজ্ঞাপন

বর্তমান সরকারকে শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে : মামুনুল হক

অ+
অ-
বর্তমান সরকারকে শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে : মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, বর্তমান সরকারকে শেখ হাসিনার ‘ভূতে’ ধরেছে। শেখ হাসিনাকে যে ভূত ধরেছিল, তিনি বিতাড়িত হওয়ার পর সেই ভূত এখন বর্তমান সরকারের ওপর সওয়ার হয়েছে। আর সেই ভূত হলো জনগণকে অপমান করার।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

মামুনুল হক বলেন, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকাল ছিল এদেশের জনগণকে নিয়ে উপহাস করা। তিনি জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে উন্নয়নকে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন। সবশেষে চার কোটি ছাত্র-জনতাকে ‘রাজাকার’ বলে গালি দিয়ে নিজের পতনের কফিনে শেষ পেরেকটি মেরেছেন। তিনি জনগণকে অপমান করার পরিণতি ভোগ করছেন।

বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তারাও জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে। সংসদে দাঁড়িয়ে জনগণকে মূর্খ সাব্যস্ত করা হচ্ছে এবং সংবিধান পড়ার ছলে ৩শ সদস্যের জনপ্রতিনিধিদের মাস্টার সাজানোর চেষ্টা চলছে। দাম্ভিকতার একটা সীমা থাকা উচিত।

তিনি সাঈদীর একটি গল্পের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সিংহ, গাধা ও শিয়ালের শিকার বণ্টনের মতো পরিণতি যেন কারো না হয়। শেখ হাসিনা গাধার মতো বোকামি করে আজ সীমান্তের ওপারে গিয়ে পড়েছেন। ৭০ বছরের পুরোনো দল আওয়ামী লীগকে তিনি ধ্বংস করে দিয়েছেন। বিএনপিকেও সেই পথ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

বিজ্ঞাপন

ক্ষমতার দাপটে জনগণকে ক্ষুদ্র না ভাবার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতার মসনদে বসলে ইঁদুরও নাকি নিজেকে সিংহ ভাবে। বিএনপিও এখন নিজেদের সিংহ ভাবছে। কিন্তু মনে রাখবেন, গণভোটের রায়কে এভাবে উপেক্ষা করার নজির বিশ্ব ইতিহাসে নেই। নিজেদের ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবেন না।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে মামুনুল হক বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বিএনপির প্রতি আমাদের এটা সর্বশেষ শুভকামনা। এরপরও যদি আমাদের কিছু বলতে হয়, তবে আন্দোলনের মাঠে কথা হবে। রাজপথে আপনাদের মোকাবিলা করা হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির, আলোচক হিসেবে উপস্থিত বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা জামান চৌধুরী, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, এবি পার্টির ব্যারিস্টার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানী আব্দুল হক, মানবাধিকার কর্মী রুবি আমাতুল্লাহ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির(এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

জেইউ/জেডএস