শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ভালো স্কুলগুলোকে ‘গলাটিপে হত্যা’ করা হয়েছে। সোমবার রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের কাফরুল দক্ষিণ থানা আয়োজিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেছেন, এক সময় এলাকাটিতে ভালো স্কুল থাকলেও বর্তমানে সেগুলো ধ্বংসের পথে, ভালো স্কুলগুলোকে ‘গলাটিপে হত্যা’ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকট, পানির সংকট, রাস্তার বেহাল অবস্থা, ড্রেনেজ সমস্যা এবং ময়লা-আবর্জনার কারণে ভয়াবহ দুর্গন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুর্গন্ধের জ্বালায় কেউ টিকতে পারে না। এলাকার দুই দিক থেকেই নানা জায়গা দখল করে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে নাগরিক সুবিধা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকাজুড়ে মাদকের সমস্যা, কিশোর গ্যাং সমস্যা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। পাশাপাশি দুর্নীতিও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকাবাসীর জন্য মানসম্মত কোনো হাসপাতাল বা উন্নত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা নেই। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছে। এলাকায় একটি ভালো ডিগ্রি কলেজ নেই। পাশাপাশি উন্নতমানের মাদ্রাসা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এসব সমস্যা ইতোমধ্যে তারা চিহ্নিত করেছেন এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে এগুলো নিয়ে কাজ করা হবে জানান তিনি।
সরকারি অনুদান বিতরণে স্বচ্ছতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ঈদের সময় আসা ১০ লক্ষ টাকা এবং ৭০০ শাড়ি আমরা প্রকৃত গরিবদের তালিকা করে বিতরণ করেছি। আমার কোনো সহকর্মীর ঘরে এক টাকার অনুদানও যায়নি। অফিস চালু হলে আমরা তালিকা টাঙিয়ে দেব, যাতে মানুষ দেখতে পারে কোনো দলীয়করণ বা আত্মীয়করণ হয়েছে কি না।
জামায়াতে ইসলামীর অতীত সংগ্রামের কথা স্মরণ করে আমীরে জামায়াত বলেন, এই পথে চলতে গিয়ে আমাদের বহু দায়িত্বশীল নেতাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো হয়েছে। জেলের ভেতরে তিল তিল করে হত্যা করা হয়েছে। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, অধ্যাপক গোলাম আযমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জগতের নিকৃষ্টতম উপায়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা দমে যাব না, ভয় পাব না। কারণ আমরা জেনে-বুঝেই এই পথে এসেছি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, আমরা একটা অফিস নিয়েছি, এই অফিসটা আপনাদের বসার জন্য উপযোগী করতে একটু সময় লাগবে। হয়তোবা এক মাস লাগবে। তারপরে ইনশাল্লাহ প্রত্যেক ওয়ার্ডের ভাই বোনদের কথা শুনবো আমরা। ভাইদেরও শুনবো বোনদেরও শুনবো। মন খুলে আপনারা কথা বলবেন। কান ভরে হৃদয় দিয়ে আমরা কথাগুলো শুনবো। শোনার পরে উভয়ে মিলে এই এলাকার সমস্যার সমাধানটা কিভাবে করতে পারি, সরকারের কাছ থেকে কতটা আদায় করতে পারি, সরকারের কাছ থেকে আদায় না করেও আমরা কি করতে পারি সেই রাস্তাগুলো আমরা বের করবো ইনশাআল্লাহ।
এমএসআই/এনটি
