বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মুখোমুখি জামায়াত-খেলাফত মজলিস

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মুখোমুখি জামায়াত-খেলাফত মজলিস

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একটি পারিবারিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফতে মজলিস। ঘটনাটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, অভিযোগ ও প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন।

এক পক্ষ এটিকে হামলা বলে দাবি করলেও অপর পক্ষ বলছে, এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক বিরোধ– যাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল)। ওই দিন সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৩ আসনে খেলাফতে মজলিস থেকে প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ইমরান ইসলামাবাদী তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী জোরজুলুম করে তাকে মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করার পর তার ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন এবং ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তবে অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করে শনিবার (২৫ এপ্রিল) প্রতিবাদ জানায় আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তাদের দাবি, ঘটনাটি সম্পূর্ণ পারিবারিক বিরোধের জের।

ইমরান ইসলামাবাদীর বড় ভাই জাকারিয়া বলেন, পারিবারিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের কারণে ইমরান কিছুদিন আগে পরিবার নিয়ে আলাদা হয়ে যান। শুক্রবার তাদের বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান চলাকালে ইমরান লোকজন নিয়ে এসে ঝামেলা সৃষ্টি করেন এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে তিনি বিষয়টিকে জামায়াতের হামলা বলে অপপ্রচার চালান।

তিনি আরও বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়টিও ছিল একান্ত পারিবারিক সিদ্ধান্ত। তাদের মায়ের অসম্মতি ও পারিবারিক অক্ষমতার কারণে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটিকে জামায়াতের ওপর চাপানোর চেষ্টা সত্য নয়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মোতালেব জানান, ইমরানদের বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় ইমরান ও তার ভাইদের মধ্যে ঝামেলা হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা ছিল না।

ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা যায়, ইমরান ঘরে প্রবেশ করে তার ভাইদের দিকে তেড়ে গেলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাস্টার আব্দুল গনি বলেন, পারিবারিক জায়গাজমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এমআর/বিআরইউ