বিজ্ঞাপন

ফ্যাসিস্ট আমলের সব অপরাধের বিচার নিশ্চিত চায় বিরোধী দল

ফ্যাসিস্ট আমলের সব অপরাধের বিচার নিশ্চিত চায় বিরোধী দল

সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা এবং ভুল দেখলে গঠনমূলক বিরোধিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে একই সঙ্গে তিনি বিদায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সব অপরাধের কঠোর বিচার দাবি করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে যতগুলো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে- খুন, গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা ধর্ষণ; প্রত্যেকটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব ও সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিচারের দিকে তাকিয়ে আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না– বিচারের অঙ্গনে কি সবুজ পতাকা উঠছে, না লাল পতাকা উঠছে, না কালো পতাকা উঠছে? আমরা একটা সবুজ পতাকা দেখতে চাই।’ তিনি বলেন, শহীদদের আত্মা এবং গুম-ধর্ষণের শিকার হওয়া মানুষদের স্বজনদের চোখের পানির অভিশাপ যেন এই সংসদকে বহন করতে না হয়, সে জন্য মজলুমদের পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে।

সংবিধান প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানের প্রতি অনেকে শ্রদ্ধা জানালেও তৎকালীন বাস্তবতায় শহীদ জিয়াউর রহমান প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামত করেছিলেন। তিনি বর্তমান সংবিধান মেনেই সংসদে আসার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সংবিধান না মানলে এখানে আসলাম কেমনে? যত সময় পর্যন্ত দেশে বিদ্যমান সংবিধান আছে, আমরা তার পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করতে পারি, কিন্তু বিদ্রোহ করব না। নাগরিক হিসেবে এটাই আমার দায়িত্ব।’

দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দখলবাজি ও দলীয় কোন্দলে অনেকগুলো মূল্যবান জীবন ঝরে গেছে। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে দেশের ৯৯ ভাগ মানুষ জিম্মি থাকতে পারে না। এসময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন যেন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নজর দেওয়া হয়।

শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আর দেখতে চাই না, যে দলেরই হোক, দায়ের কোপে কিংবা আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে কারো জীবন চলে গেছে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হবে।’

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, শিক্ষাঙ্গনগুলোকে যেন সব ধরনের সন্ত্রাসমুক্ত রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়। আমরা আর দেখতে চাই না- যে দলেরই হোক দায়ের কোপে কিংবা আগ্নেয় অস্ত্রে কারো জীবন নিয়ে গেছে, এটা দেখতে চাই না। আমরা দেখতে  চাই শিক্ষাঙ্গনে শিশু হয়ে ঢুকবে, পরিণত মানুষ, দক্ষ নাগরিক ও নৈতিকতা বোধ সম্পন্ন নাগরিক হয়ে বের হবে। দেশপ্রেম বুকে নিয়ে বের হবে। দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে বের হবে। আমরা সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটা দেখতে চাই। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য এই দুইটাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

সবশেষে তিনি একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

এমএসআই/বিআরইউ