শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও তাদের জন্য দলীয় অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, তিনি (জিয়াউর রহমান) নিজেকে শ্রমিক পরিচয়ে অভিহিত করে শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন।
পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে খালেদা জিয়া লেবার বোর্ড ও লেবার ফাউন্ডেশনের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। শ্রমিকদের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়া যা করতে চেয়েছিলেন, তা বাস্তবায়িত হলে আপাতত শ্রমিকদের আর কোনো সমস্যা থাকবে না।
শুক্রবার (১ মে) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি আনোয়ার হোসেইন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সমাবেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশে থেকেও গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।
বর্তমান সময়ে শ্রমিকদের সব দাবি একসঙ্গে পূরণ হওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি পর্যায়ক্রমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, তিনি ১৯৭৮ সাল থেকে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত এবং শ্রমিক দলের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে কাজ করছেন। এজন্য শ্রমিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
এ সময় সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, যদি আপনারা শহীদ জিয়াকে সফল করতে চান, যদি খালেদা জিয়াকে বাঁচিয়ে রাখতে চান, যদি তারেক জিয়াকে ভালোবাসেন, তাহলে আজকে আপনাদের কাছে আমি একটি প্রতিশ্রুতি চাই। সেটি হলো, আগামী এক বছরে আপনারা প্রত্যেকে দুজন করে নতুন সাথী বানাবেন। তাহলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। সংগঠনের শক্তি বাড়লে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী হলে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকে দুজন করে শ্রমিক সাথী বাড়ালে আজকের শ্রমিক সভায় যদি ৩ লাখ লোক থাকে, তাহলে আগামী সমাবেশে আমরা ৯ লাখ শ্রমিক পাব বলে আশা করছি। শ্রমিক সাথী বাড়লে কোনো অপশক্তিই আমাদের প্রতিহত করতে পারবে না। আজকে যারা বিএনপির সফলতা নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে, তারাও থেমে যাবে।
সমাবেশে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।
এমএমএইচ/এমএসএ
