জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সমান মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শ্রমজীবী মানুষের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ এবং তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় শ্রমিক শক্তির আয়োজিত আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে এক শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, পয়োনিষ্কাশন বা জুতা সেলাইয়ের মতো পেশায় নিয়োজিত মানুষদের অবদানেই শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় থাকে। অথচ তাদের সঙ্গে সামাজিক বিভাজন তৈরি করা হয়, যা একটি মানবিক সমাজের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে কথোপকথনে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার তাদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে। তাই প্রত্যেককে সচেতন হয়ে সম্মানজনক ভাষায় শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা জুতা সেলাই বা পয়োনিষ্কাশনের কাজ করেন, তাদের অনেক জায়গায় এখনও হোটেলে বসে খাবার খেতে দেওয়া হয় না। এ ধরনের আচরণ মানবিক মর্যাদার পরিপন্থি এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজকে আমরা যখন শ্রমিকদের মজুরির কথা বলছি, তখন আমাদের দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির দিকে তাকানো প্রয়োজন। গতকাল অর্থমন্ত্রী দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছি। বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। এই খাদের কিনারায় দেশের অর্থনীতিকে নিয়ে যেতে সরকার এমন একটি আইন করেছে, যার মাধ্যমে একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর মালিকানা লুটেরাদের ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
যেসব লুটেরা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তারা যদি লুটের সাড়ে সাত শতাংশ অর্থ ব্যাংকে ফিরিয়ে দিতে পারে, তাহলে তারা আবার ব্যাংকগুলোর মালিকানা নিতে পারবে। এভাবে বাংলাদেশের ব্যাংক রেজুলেশন আইন পাস করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। মাত্র সাড়ে সাত শতাংশ লুটের টাকা ফিরিয়ে দিয়ে পুরো লুটের টাকার বৈধতা দিচ্ছে সরকার।
তারা যদি আবার ব্যাংকের মালিকানায় ফিরে আসে, তাহলে পুনরায় ব্যাংকখাতে লুটপাট করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করবে। এর ফলে দেশের শ্রমিকেরা তাদের মজুরি পেতে বাধাগ্রস্ত হবে এবং তাদের জীবনমান আরও কমে যাবে। দেশের অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় নিয়ে যাওয়ার একটি আইন সংসদে পাস করানো হয়েছে।
এমএল/এসএএস/এসএম
