সীমান্তে পুশ-ইন বন্ধ এবং দেশের শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীদের বৈধতা যাচাইসহ দেশীয় কর্মসংস্থান সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ বিষয়ে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি জানান।
এতে সাগুফতা বুশরা বলেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মী, বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকদের নিয়োগের স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে।
সাগুফতা বুশরা বলেন, আমাদের অবস্থান কোনো দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে নয়। আমরা বাংলাদেশের আইন, সার্বভৌমত্ব, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পক্ষে কথা বলছি।
তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে যেখানে দেশীয় দক্ষ জনবল রয়েছে, সেখানে ধাপে ধাপে বাংলাদেশি জনবল দিয়ে বিদেশি কর্মীদের প্রতিস্থাপনের কার্যকর রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সীমান্তে পুশ-ইনের প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও তথ্য প্রকাশ, আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিক ও রাষ্ট্রের মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া দেশে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের, বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকদের বৈধতা যাচাইয়ে জরুরি জাতীয় অডিট, অবৈধভাবে কর্মরতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সীমান্তে পুশ-ইন বিষয়ে সরকারি অবস্থান, বিদেশি কর্মীদের বৈধতা যাচাইয়ের রূপরেখা এবং দেশীয় কর্মসংস্থান সুরক্ষার কর্মপরিকল্পনা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এমআর/এসএম
