পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও গাছ কাটার ক্ষেত্রে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল।
তিনি বলেছেন, একটি গাছ পরিবেশ সুরক্ষায় যে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা ও বিদ্যমান আইনি কাঠামো যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার (১৭ জুন) জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সমাজকল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বাংলাদেশ গাছ কর্তন নীতিমালা অনুযায়ী রাজধানীসহ সারাদেশে সামাজিক বনায়ন বা সরকারি যেকোনো গাছ কাটতে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাছ কাটার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুমতি প্রয়োজন না হলেও সরকারি নির্দেশনা ও আইনি কাঠামোর সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ জরুরি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রতিবছর যে বাজেট বরাদ্দ করা হয়, তা কার্যত ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’। বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ থাকলেও সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হয়, জনগণ তা জানতে পারে না।
তার দাবি, লুটপাট ও ভাগ-বাটোয়ারার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা এসব বরাদ্দের সুবিধা নিয়ে থাকেন। ফলে প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারকে টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে দুর্নীতির পথ তৈরি করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, দেশকে আবারও দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের উপস্থাপিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্যসেবা খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেখানে স্বাস্থ্যখাত নানা সংকটে রয়েছে, সেখানে হাসপাতাল বন্ধ করে দিলে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন– কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালামসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
জেইউ/বিআরইউ
