অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
তিনি বলেছেন, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের লক্ষ্য ছিল বৈষম্য, দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। কিন্তু নানা রাজনৈতিক কৌশল ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার সরকার প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে অলি আহমদ বলেন, যারা ইসলামি মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা ও সুশাসনের কথা বলেন, তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উগ্রবাদী বা মৌলবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, যা দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা, জবাবদিহি ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির পরিবর্তে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো আরও প্রকট হয়ে উঠছে। এতে দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়ে জনগণ ভোট দিয়েছে, তা কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে। এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে পারবে না, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে।
দেশে এখনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিচার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রবণতা রয়ে গেছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে আরও সুস্পষ্ট ও শক্ত অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে দেশের সংকট আরও গভীর হবে।
বাংলাদেশের মানুষ একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র চায় উল্লেখ করে অলি আহমদ বলেন, সেই লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আরও ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এ সময় তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। এ জন্য প্রয়োজনে দেশবাসীকে বর্ডারের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে খুলনা বিভাগীয় এই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন– বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।
মোহাম্মদ মিলন/বিআরইউ
