কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরে কর্মসূচি ঘোষণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচারণাকে কেন্দ্র করে নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। বিশেষ করে কাজীর দেউড়ি, লালখান বাজার, টাইগারপাস, দুই নম্বর গেট ও নিউ মার্কেট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশের টহল চলমান রয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীদের তল্লাশি করছে পুলিশ।
এদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কোনো ধরনের অরাজকতা রুখতে রাজপথে সক্রিয় রয়েছে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। নগরের চাঁন্দগাও, দুই নম্বর গেট, কাজীর দেউড়ি ও নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে সতর্ক অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল পালন করতে দেখা গেছে। কোনো অবস্থাতেই নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কার্যক্রম রাজপথে হতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দলটি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো চক্রান্ত রুখতে আমরা রাজপথে আছি। আমরা শান্তিপ্রিয় পরিবেশ বজায় রাখতে চাই। জনগণের জীবনযাত্রা যাতে স্বাভাবিক থাকে, তার জন্যই আমাদের এই অবস্থান কর্মসূচি।
তিনি আরও বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের আইনের আওতায় আনার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। আমরা মূলত জনগণের জানমাল ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করছি। বর্তমানে নগরের অন্তত ৭০ থেকে ৮০টি স্পটে আমাদের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নগর পুলিশ সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। কোনো গোষ্ঠী যেন জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত নগরের কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় প্রত্যেক সদস্যকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তারা নিজ দায়িত্ব পালন করছেন।
জেআই/জেডএস
