বিজ্ঞাপন

অবিলম্বে ২ লাখ মাদ্রাসাশিক্ষক কর্মচারীর বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি শিবিরের

অবিলম্বে ২ লাখ মাদ্রাসাশিক্ষক কর্মচারীর বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি শিবিরের

এমপিওভুক্ত প্রায় দুই লাখ মাদ্রাসাশিক্ষক ও কর্মচারীর মে মাসের বেতন আটকে রাখা এবং মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি ধারাবাহিক বিমাতাসুলভ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। অবিলম্বে আটকে রাখা মে মাসের বেতন অবিলম্বে পরিশোধ করার দাবি জানিয়েছে ছাত্রসংগঠনটি।

বুধবার (২৪ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, সাধারণ স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে বেতন পেলেও মাস শেষ হতে চললেও মাদ্রাসাশিক্ষকদের বেতন না হওয়াটা চরম বৈষম্য ও অবহেলার নজির। মাস শেষে নির্ধারিত সময়ে বেতন-ভাতা পাওয়া সাধারণ স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের ন্যায় মাদ্রাসাশিক্ষকদেরও একটি মৌলিক ও আইনগত অধিকার। মাদ্রাসাশিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা আটকে রাখার এই দ্বিমুখী আচরণ মূলত দেশের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার একটি সুগভীর ষড়যন্ত্র।

তারা বলেন, গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৫১১ কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে ফান্ডে মাত্র ৮৬ কোটি টাকা থাকায় এই তীব্র সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন ‘অ্যানালগ সিস্টেমের’ অজুহাত দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে। অথচ স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা ঠিকই ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন পাচ্ছেন। অ্যানালগ পদ্ধতির এই খোঁড়া অজুহাত দিয়ে মূলত সরকারের তীব্র অর্থসংকট ও প্রশাসনিক চরম অব্যবস্থাপনাকেই আড়াল করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে, যা দেশবাসীর সামনে এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। 

বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, প্রতিটি সরকারের বৈষম্যমূলক নীতি ও চরম অবহেলার শিকার হয়ে মাদ্রাসাশিক্ষকরা বছরের পর বছর ধরে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চলমান এই সংকট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের কাঠামোগত বঞ্চনারই একটি নতুন রূপ। দেশের প্রায় সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ হলেও সমমানের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে আজও জাতীয়করণ করা হয়নি। ফাজিল ও কামিল স্তরের শিক্ষকরা এমপিওভুক্তি থেকে বঞ্চিত; সেই সাথে উৎসব ভাতা, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও মাদ্রাসাশিক্ষকদের সাথে পরিকল্পিত বৈষম্য করা হচ্ছে।

তারা আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই মাসে দুই মাসের বেতন একসঙ্গে দেওয়ার আশ্বাস শিক্ষকদের ক্ষুধার অন্ন জোগাবে না। হয়রানি এড়াতে দ্রুততম সময়ে সব মাদ্রাসাকে ডিজিটাল বা ইএফটি পদ্ধতির আওতায় আনতে হবে। 

তারা আরও বলেন, অবিলম্বে জরুরি তহবিল গঠন করে মে মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় বিরাজমান সব বৈষম্য দূর করার জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে দেশের সামগ্রিক মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারকে অবিলম্বে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, আধুনিক কারিকুলাম বাস্তবায়ন এবং কাঠামোগত বৈষম্য দূরীকরণে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

জেইউ/এমএসএ