জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব সাদিয়া আফরিন ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. সুজা উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগ আনার প্রতিবাদে আদালতে মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত রোববার (২১ জুন) সাদিয়া আফরিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালতে গত ২১ জুন দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দিয়েছেন আদালত। মামলায় সানজিদা সুলতানা ইভা ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হুজ্জাতুল ইসলাম সাইদকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি নেপথ্যে ইন্ধন জোগানোর অভিযোগে অজ্ঞাত পরিচয় আরও দুজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নারী শক্তির সমর্থক সানজিদা সুলতানা ইভা গত ১৪ জুন রাতে চট্টগ্রামের হোটেল পেনিনসুলার রুফটপ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তিনি সংবাদ সম্মেলনে এস. এম. সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের ছবি প্রদর্শন করে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধান, সিসিটিভি ফুটেজ, রেস্টুরেন্টের বিল এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় অভিযোগকারীর বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনার বিভিন্ন অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে এনসিপি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জিডি দায়েরের সময় অভিযোগকারী একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতার পরিচালিত একটি ফেসবুক পেজে লাইভে অংশ নেন। এ ছাড়া, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন ও প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ে প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন। তাদের প্ররোচনায় কিছু কর্মীকে ব্যবহার করে দলের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাদিয়া আফরিন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই আমাকে ও আমার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশে নারীকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে হেয় করার চেষ্টা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। তবে একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপির অভ্যন্তরে এ ধরনের বিতর্ক ও সংঘাত দলটির ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক নয়।
তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং জড়িতদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট রিজু বলেন, আদালত মামলাটি নিয়ে তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।
এসএএস/এসএইচএ
