পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের ৮৫৬ জন শহীদের নামে ৮৫৬টি বৃক্ষ বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
রোববার (২৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর দনিয়া কলেজ প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ বিতরণ করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিবির সভাপতি বলেন, নিজেদের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে অক্সিজেনের উৎপাদন বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। একটি পূর্ণবয়স্ক বৃক্ষ প্রতিদিন প্রায় ২২০ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করে, যা মানুষের জীবন ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নুরুল ইসলাম বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতি বছর দেশব্যাপী লক্ষাধিক বৃক্ষের চারা রোপণ ও বিতরণের কর্মসূচি পালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা জুলাই অভ্যুত্থানের ৮৫৬ জন শহীদের স্মরণে ৮৫৬টি বৃক্ষ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, এটি শুধু প্রতীকী কর্মসূচি নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার একটি প্রয়াস।
তিনি সরকারের প্রতি পরিবেশ সংরক্ষণে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও বনায়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হওয়া উচিত। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সরকার, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য প্রেরণার উৎস। তাদের স্মৃতিকে ধারণ করেই ছাত্রশিবির একটি সবুজ, বাসযোগ্য ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি শিক্ষার্থীদের অন্তত একটি করে বৃক্ষ রোপণ, পরিচর্যা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি হাফেজ আনোয়ার হোসাইন, অর্থ সম্পাদক ওমর ফারুক ফাহিম, অফিস সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাইফুলসহ মহানগর ও দনিয়া কলেজ শাখার নেতারা।
অনুষ্ঠান শেষে কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া গেজেটভুক্ত ৮৫৬ জন শহীদের নামে ৮৫৬টি বৃক্ষ বিতরণ করা হয়।
জেইউ/জেডএস
