বিজ্ঞাপন

জুলাইকে পুনর্মঞ্চায়ন ও পুনরুজ্জীবিত করতে কর্মসূচি ঘোষণা করলো এনসিপি

জুলাইকে পুনর্মঞ্চায়ন ও পুনরুজ্জীবিত করতে কর্মসূচি ঘোষণা করলো এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সমাজের প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। শিক্ষার্থী, ছাত্র-জনতা, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ধনী-গরিব, বাবা-মা— সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের প্রতিটি দিনই ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে আমরা ৫ আগস্টের চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে ধাবিত হয়েছিলাম। সেই পুরো জুলাইকে পুনর্মঞ্চায়ন ও পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আমরা প্রতিটি দিনের জন্য বিশেষ বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছি।

আজ (সোমবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে বিপ্লবের মাস জুলাইয়ে দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী এক মাসব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ১ জুলাই আমরা রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারত করব। একই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনসমূহের সংহতি সভা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ‘জুলাই থেকে জনপদ’ নামে একটি কর্মসূচি শুরু হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিচার ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে মাসব্যাপী উপজেলা পর্যায়ে পদযাত্রার ঘোষণা দেওয়া হবে।

২ জুলাই থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী গ্রাফিতি, দেওয়াল লিখন, ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে জুলাই জাগরণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

৫ থেকে ৯ জুলাই ‘জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’ অনুষ্ঠিত হবে।

১০ জুলাই ‘বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরবর্তী অভিমুখ : লেখক ও বুদ্ধিজীবীর দায়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

১৪ জুলাই ‘জুলাই নারী সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হবে। আপনারা জানেন, এই দিনটি জুলাইয়ের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে শুরু করে সারা দেশে নারীদের জাগরণ ঘটেছিল।

১৫ জুলাই ‘কৃষকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

১৬ জুলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের কবর জিয়ারত, দেশব্যাপী দোয়া ও মোনাজাতের কর্মসূচি পালন করা হবে। এদিন রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর এবং চট্টগ্রামে শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করা হবে। একই সঙ্গে সারা দেশে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, দোয়া ও মোনাজাত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

১৭ জুলাই ফ্যাসিবাদের বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালিত হবে।

১৯ জুলাই ‘উত্তরার রক্তাক্ত জুলাই’ শীর্ষক স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

২০ জুলাই ‘জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ি ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

২২ জুলাই চিকিৎসকদের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এর শিরোনাম ‘সাদা অ্যাপ্রনের সাহস ও জুলাইয়ের অদৃশ্য বীররা’।

২৩ জুলাই ‘আহতদের কণ্ঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও যন্ত্রণার দিনলিপি’ শীর্ষক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

২৪ জুলাই ‘জুলাই যুব কনভেনশন’ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে ‘অবরুদ্ধ সময়ের স্মৃতি ও কবিতা’ শীর্ষক আরেকটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

২৫ জুলাই শ্রমিক সমাবেশ ও স্মরণীয় চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

২৬ জুলাই ‘সাদা পোশাকের জালিম’ শীর্ষক স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

২৭ জুলাই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

৩০ জুলাই দুটি কর্মসূচি থাকবে। প্রথমটি ‘ফিরে দেখা জুলাই’ এবং দ্বিতীয়টি ‘হ্যাশট্যাগ থেকে গণঅভ্যুত্থান’।

৩১ জুলাই ‘তীর্থে জুলাইয়ের ক্যাম্পাস’ শীর্ষক শিক্ষকদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ১ আগস্ট ‘দেশপ্রেমের ইউনিফর্ম’ শীর্ষক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে ‘সংবাদে গণঅভ্যুত্থান’ নামে আরেকটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। আপনারা যারা গণমাধ্যমকর্মী, যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই সময় পেশাদার সাংবাদিকতা করেছেন, যখন সংবাদ পরিবেশন করাই ছিল জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার মতো বিষয়—মোবাইল জার্নালিজম, সিটিজেন জার্নালিজম থেকে শুরু করে মূলধারার সাংবাদিকতায় যারা জুলাইকে ধারণ করে দেশের পক্ষে, জনতার পক্ষে এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করেছেন, তাদের স্মরণে এই ‘সংবাদে গণঅভ্যুত্থান’ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।

২ আগস্ট ‘জুলাইয়ের গৃহযাত্রা’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে ‘গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ’ এবং ‘জুলাই স্মরণী প্রকাশ’ কর্মসূচি থাকবে।

৩ আগস্ট, যেদিন এনসিপির আহ্বায়ক জাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং নতুন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন, সেদিন আমরা ‘জনতার এক দফা’ কর্মসূচি পালন করব।

৪ আগস্ট ‘শ্রদ্ধা, স্মৃতি ও প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে আহত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে।

৫ আগস্ট, আমাদের বিজয়ের দিনে ‘বিজয়ের উল্লাস’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া পুরো মাসজুড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের ‘প্রবাসে জুলাই’ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিনই এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ বাস্তবায়ন কমিটি’। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করব আমি। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। প্রতিটি কর্মসূচির স্থান ও সময় সংশ্লিষ্ট উইং নিজ নিজ উদ্যোগে প্রকাশ করবে।

এ ছাড়া, কমিটিতে বিভিন্ন পর্যায় ও বিভিন্ন উইংয়ের প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন— আরিফুল ইসলাম আদি, আকরাম হোসেন সিয়া, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, মাওলানা আশরাফ মাহদী, সাইফ মুস্তাফিজ, আলাউদ্দিন, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, মুস্তাফিজুল শান্ত, মাহিন সরকার, লুৎফুর রহমান, তাহসিন রিয়াজ, অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, ইসহাক সরকার, ড. আব্দুল আহাদ, মাজহারুল ইসলাম, সাদিয়া ফারজানা, দিনা রিয়াজ, মুরশেদ রিফাত রশিদ, মাওলানা সানাউল্লাহ খান ও সাঈদ জামিল।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করবেন জাহিদ আহসান, বাকের মজুমদার, গণঅভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ আকরাম হোসাইন রাজসহ আরও অনেকে। আমাদের দলে বিভিন্ন যোগ্যতা ও দক্ষতাসম্পন্ন সদস্য রয়েছেন। তাদের সবাইকে এই বাস্তবায়ন কমিটির বিভিন্ন দায়িত্বে সম্পৃক্ত করা হবে।

এমএইচএন/এসএএস/এনএফ