বিজ্ঞাপন

এবি পার্টি

বাজেট ও মুদ্রানীতির সাংঘর্ষিক অবস্থান অর্থনীতিকে আরও সংকটে ফেলবে

বাজেট ও মুদ্রানীতির সাংঘর্ষিক অবস্থান অর্থনীতিকে আরও সংকটে ফেলবে

সরকারের সম্প্রসারণমুখী জাতীয় বাজেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির মধ্যে বিদ্যমান অসামঞ্জস্য দেশের অর্থনীতিকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

তিনি বলেন, একই সরকারের পক্ষ থেকে একদিকে বিপুল ঋণনির্ভর বাজেট বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের নামে কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই দুই নীতির মধ্যে সাংঘর্ষিক অবস্থান অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক না হয়ে বরং নতুন সংকট তৈরি করবে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, জাতীয় বাজেট পাসের দিনই বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে সরকারের ভেতরে অর্থনৈতিক দর্শন ও নীতির ক্ষেত্রে কোনো ঐক্য নেই। সরকার যদি সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি অনুসরণ করে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করে, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।

তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর ধরে দেশের মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ সহ্য করছে। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় কমানো, বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মতো মৌলিক উদ্যোগ না নিয়ে সরকার ঋণনির্ভর বাজেটের ওপর নির্ভর করছে। এতে মূল্যস্ফীতি কমার পরিবর্তে অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি মূলত ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটজনিত। শুধু সুদের হার বাড়িয়ে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সরকারের নীতিগত ভুল, ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনা, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, জ্বালানি সংকট এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দূর না করলে কঠোর মুদ্রানীতিও প্রত্যাশিত ফল দেবে না।

বিবৃতিতে ব্যারিস্টার ফুয়াদ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সরকারের কাছে একটি সমন্বিত, বাস্তবমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।

ওএফএ/এএমকে