বিজ্ঞাপন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ভূমিধসে নারী-শিশু মৃত্যু, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে

ভূমিধসে নারী-শিশু মৃত্যু, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ভূমিধসে নারী ও শিশু মৃত্যু বেদনাদায়ক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে একথা বলেন তিনি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ বৃষ্টিপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি নিত্য বছরের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর অতিবৃষ্টিতে ভূমিধস ও পাহাড়ধসে মৃত্যুর ঘটনাও প্রতিবছরই ঘটছে। প্রতিটি মৃত্যুর পরে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয় না। ফলে পরের পর বছর এইরকম মৃত্যুর ঘটনা দেখতে হয়। আদতে এগুলো দুর্ঘটনা না বরং রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড। কোনো কার্যকর রাষ্ট্রে এই রকম চলতে পারে না। 

আজকেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নির্মিত মহিলা হেফজ মাদ্রাসার ওপরে পাহাড় ধসে তিনজন ছাত্রী মৃত্যুবরণ করেছে। তাদের সবার বয়স নয় থেকে পনেরো বছর। এর আগে গত সোমবার রাতে ভূমিধসের ঘটনায় আশ্রয়শিবিরে নারী শিশুসহ অন্তত ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছিল। আজকে চট্টগ্রামেও দুইশিশু পাহাড়ধসের ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে। এসব মৃত্যু বেদনাদায়ক। এর পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, পাহাড়ধসের ঘটনা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না বরং মানুষের করা অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিক্রিয়া। বছরের পর বছর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পাহাড় কাটা হয়। দিনের পর দিন কাটা পাহাড়ে বাড়ি-ঘর করে মানুষ থাকে। কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয় না। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রায় পুরোটাই গড়ে তোলা হয়েছে পাহাড় কেটে। বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেতে যে রোহিঙ্গাগণ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঠেলে দিতে পারি না। আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে সত্য কিন্তু আশ্রয়প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। যারা এর দায়িত্বে ছিলো তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু মাইকিং করাই সমাধান না বরং ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সরিয়ে নিতে হবে। আমরা ভূমি বা পাহাড়ধসে আর কোনো মৃত্যু দেখতে চাই না।

জেইউ/বিআরইউ