বিজ্ঞাপন

এবি পার্টির আলোচনা সভা

জুলাইয়ের হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে শক্তিশালী এজেন্সি গঠনের আহ্বান

জুলাইয়ের হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে শক্তিশালী এজেন্সি গঠনের আহ্বান

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব ও ডেইলি ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি নতুন, শক্তিশালী ও নিবেদিত (ডেডিকেটেড) এজেন্সি গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, আমাদের শত্রুরা বসে নেই। তারা এ দেশ থেকে যে অর্থ লুট করেছে, তা ব্যবহার করে নানা ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, জুলাইয়ে কারা আমাদের সন্ত্রাসী বলেছিল, কারা আমাদের দাসত্বে আবদ্ধ করে রাখতে চেয়েছিল। সেই স্মৃতি যেন আমরা কখনো ভুলে না যাই, সে জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আমাদের শিখিয়েছে আমরা সবাই এক। এটি আমাদের দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে আসার শিক্ষা দিয়েছে। হত্যাকারীদের কেউ যেন বিচারের বাইরে না থাকে কিংবা বহু বছর পর দেশে ফিরে এসে কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় আবার রাজনীতি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এবি পার্টির আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, যেদিন আমাদের শিশু-কিশোররা আন্দোলনে শামিল হয়েছিল, তারা কখনো রাজনীতির জন্য মাঠে নামেনি। তারা ভয়ের সমাজ থেকে মুক্তির জন্য লড়াই করেছে। এই লড়াই কখনোই নির্বাচনের জন্য ছিল না। কিন্তু বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে সরকারের একজন নেতা যখন গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কথা বললেন, সেটি ছিল একটি বড় ধরনের ভুল (ব্লান্ডার)।

তিনি বলেন, আগামী একশ বছর তাদের এই দায় বহন করতে হবে। তারা এখনো বুঝতে পারেননি, তারা কত বড় ভুল করেছেন। যেসব আইন ল্যাপস করা হয়েছে, সেগুলো অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত জুলাই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, একসময় ফেলানীর মরদেহ সীমান্তে ঝুলে থাকলেও আমরা তা আনতে সাহস পেতাম না। অথচ এখন ভারতের ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি সাধারণ মানুষও কোদাল-কাস্তে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এটি জুলাইয়ের চেতনারই প্রতিফলন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, যখন শিক্ষার্থীরা ‘তুমি কে, আমি কে- রাজাকার, রাজাকার; কে বলেছে, কে বলেছে- স্বৈরাচার, স্বৈরাচার’ স্লোগান দিয়েছিল, তখনই আমরা ধরে নিয়েছিলাম শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবহার করে যে রাজনীতি করেছে, তার অবসান ঘটবে। এই ভূখণ্ডে জুলুম কখনো স্থায়ী হতে পারে না।

তিনি বলেন, জুলাই আমাদের কাছে শুধু শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন ছিল না; বরং আওয়ামী লীগ যে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল, তা থেকে মুক্তির আন্দোলনও ছিল। আজ হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে, জনগণ সেই রায় ১২ তারিখেই দিয়ে দিয়েছিল। এখন সেই জনরায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, জুলাই আমাদের প্রবল আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সেই আকাঙ্ক্ষা হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের পরিবর্তে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং একটি ঐক্যবদ্ধ, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলা। জুলাই আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়েছে। তরুণরা যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তাদের থামিয়ে রাখা যায় না।

তিনি বলেন, সংস্কারের মাধ্যমে আগামীর সোনার বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা, সেটিও জুলাই সৃষ্টি করেছে। আমরা বহুবার এক টেবিলে বসেছি, জাতির সামনে অঙ্গীকার করেছি, জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছি এবং সবাই তাতে স্বাক্ষরও করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সনদ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। হাইকোর্টের রায় আমাদের জন্য সুখবর। কারণ ভোটাধিকারের জন্যই জুলাই যোদ্ধারা জীবন দিয়েছেন।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এক পক্ষ বলছে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। অন্য পক্ষ বলছে, এটি নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে না, জুলাই সনদ কবে বাস্তবায়ন হবে। জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের অনেক কিছুই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। যেসব অধ্যাদেশ পাস হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোও হয়নি। সত্যকে আগলে রাখতে হবে। জুলাইয়ের চেতনার বাস্তবায়ন চাই, তবে সেটি কী পদ্ধতিতে হবে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বলা হচ্ছে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। না, তিনি ফিরতে পারবেন না। শোনা যায়, তিনি ভারতে যেতে চাননি, গোপালগঞ্জে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু গোপালগঞ্জে যেতে ২৮টি লাগেজের প্রয়োজন হয় না। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের কোনো দেশই তাকে গ্রহণ করতে আগ্রহী নয়। বাংলাদেশের জনগণও তাকে আর কখনো রাজনীতিতে গ্রহণ করবে না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও সক্রিয় থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আজাদ ভাই বলেছেন, তিনি কোনো পরিবর্তন দেখছেন না। কিন্তু পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়। দীর্ঘ সময়ে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদী কাঠামো কয়েক মাসে পরিবর্তন করা যায় না। তবে পরিবর্তন হচ্ছে এবং তা ধীরে ধীরে হবে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, একজন জামায়াত নেতা বলেছেন, নির্বাচনে তাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। চার মাস পর এ ধরনের বক্তব্য শেখ হাসিনাকেই খুশি করবে। এটি তো আওয়ামী লীগের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়। অথচ সারা বিশ্ব বলছে, নির্বাচন ভালো হয়েছে। এটি একটি আত্মঘাতী মন্তব্য। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, নানা শক্তি জুলাইকে অপমান ও অপদস্থ করার চেষ্টা করছে। অবশ্যই আমরা জুলাইকে ধারণ করে যাবো, সব সময় জুলাই জুলাই করবো। জুলাই জুলাই করে আমরা মরবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের পালানোর জায়গা নাই, আমরা এই দেশেই লড়াই চালিয়ে যাবো।

এমএল/এসএএস