স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার এবং যত দ্রুত সম্ভব বিএনপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। একইসঙ্গে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সব ইউনিটকে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৭টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১২ জুলাই) দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার সিদ্ধান্তগুলো জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিত, চার্চের ফাদার ও বৌদ্ধ মন্দিরের সেবায়েতদের ভাতা প্রদান কর্মসূচির অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
এছাড়া বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়।
সভায় জুলাই সনদ ও গণভোট ইস্যুতে বিরোধী দলের বক্তব্যকে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে তার নিন্দা জানায় স্থায়ী কমিটি।
এ বিষয়ে দলের অবস্থান জনগণের কাছে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় স্থায়ী কমিটির সভায়।
মির্জা ফখরুল জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে দলীয় ইউনিটগুলোকে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে দ্রুত জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব মহাসচিবকে দেওয়া হয়।
সভায় ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে সফল মনে করে স্থায়ী কমিটি। দুই দেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ও সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। সফর সফলভাবে সম্পন্ন করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়।
সভায় আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও আলোচনা হয় বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও মত দেয় স্থায়ী কমিটি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে স্থায়ী কমিটি। এ অর্জন বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
দেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম আরও সক্রিয় করতে সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এএইচআর/জেডএস
