বিজ্ঞাপন

পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের

পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের

দেশব্যাপী বন্যা, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও আলিম সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রীর নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগের বিষয়টি সরকারকে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর আইসিএবি মিলনায়তনে সংগঠনটির ষান্মাসিক পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এসব দাবি জানান ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বর্ষণ, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। বহু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং অনেক শিক্ষার্থী নিরাপদে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত দুর্ভোগ, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও মানসিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মুনতাছির আহমাদ অভিযোগ করেন, শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বহীন সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। পরীক্ষা আয়োজনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিভ্রান্তি ও অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিতভাবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।

এ ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগের বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও আলিম সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত। পাশাপাশি পুনর্নির্ধারিত পরীক্ষার সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়।

বৈঠকে সংগঠনের নেতারা বলেন, দুর্যোগের এ সময়ে মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও মানবিক প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সহ সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান, সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ফয়জুল ইসলাম ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আব্দুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

জেইউ/এসএএস