বিজ্ঞাপন

জুলাই ব্যর্থ নয়, বিএনপি-জামায়াত প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পেয়েছে : মঞ্জু

জুলাই ব্যর্থ নয়, বিএনপি-জামায়াত প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পেয়েছে : মঞ্জু

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ বলার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু। তার দাবি, আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী যা চেয়েছিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান তার চেয়েও বেশি অর্জন এনে দিয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই উত্তর রাজনীতি– গতি ও গত্যন্তর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মঞ্জু বলেন, জুলাই-পূর্ব ও জুলাই-পরবর্তী রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে এ আন্দোলনকে ব্যর্থ বলার সুযোগ নেই। বিএনপি গত ১৭ বছরে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের দেশে ফেরা, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং দখল হওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফিরে পাওয়ার দাবিতে আন্দোলন করেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এসব প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে দখলদারিত্ব এক ধাপ এগিয়েও গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত প্রসঙ্গে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দলটি নিষিদ্ধ অবস্থা থেকে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তালাবদ্ধ কার্যালয় খুলেছে এবং ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নেতারাও মুক্ত হয়ে সংসদ ভবনে গেছেন। তার ভাষ্য, তারা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পেয়েছে।

এ সময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, অতীতে একই সরকারের অংশ থাকা বিএনপি ও জামায়াত এখন কেন একে অপরকে ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘রাজাকার’ বলছে? একই সঙ্গে জুলাই-পরবর্তী রাজনীতিতে কার নেতৃত্বে আন্দোলন সফল হয়েছে- এ নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়াকেও তিনি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।

মঞ্জু বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতার কারণে জুলাই সনদ ও গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দলগুলো একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে। তবে আওয়ামী লীগ ও জুলাই প্রশ্নে ঐক্য ধরে রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই গণভবনে ৩৪ শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শেখ হাসিনা শোকসভা করেছিলেন। ৫ আগস্ট তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য না হলে এবং আন্দোলন ব্যর্থ হলে শহীদ পরিবারের সদস্যদের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় জড়াতে বাধ্য করা হতো বলে দাবি করেন তিনি।

২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে মঞ্জু বলেন, সে সময় বিএনপি ও জামায়াত আন্দোলনে সহযোগিতা করলেও কঠোর দমন-পীড়নের পর কেউ সেই সহযোগিতার কৃতিত্ব দাবি করেনি। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছে।

তার ভাষায়, বিজয়ের কৃতিত্ব সবাই নিতে চায়, কিন্তু পরাজয়ের দায় কেউ নিতে চায় না।

জুলাই-পরবর্তী রাজনীতিতে তিনটি বিষয় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে অনৈক্য, নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলোর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং পরাজিতদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা- এই তিনটি বিষয় ভবিষ্যতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

জেইউ/আরএফ