বিজ্ঞাপন

বরকত উল্লাহ বুলু

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। 

তিনি বলেছেন, কোনোভাবেই জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না।

রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভাসানী জনশক্তি পার্টির ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি জাতির দায়বদ্ধতা রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও লক্ষ্য যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে জনগণ ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ১৯৭১ আমাদের ভিত্তিমূ্ল, একে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই এবং ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের ত্যাগের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই। শেখ মুজিব যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বের হয়ে বাকশাল ও একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছিলেন, তখনই তিনি নিজের পতন ডেকে এনেছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালে জামাত ও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিয়ে এরশাদের স্বৈরাশাসনকে দীর্ঘায়িত করেছিল এবং ১৯৯৬ সালে জামায়াতের সমর্থন না পেলে শেখ হাসিনা কখনোই ক্ষমতায় আসতে পারতেন না। 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া নন-ডিসক্লোজার বা গোপন চুক্তি প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য বলেন, এই চুক্তি বর্তমান সরকার করেনি, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়। এই চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হলে কোনো একক দলের পক্ষে তা সম্ভব নয় বরং জামায়াতে ইসলামীসহ দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাবি তুলতে হবে।

শিক্ষা খাতে সাবেক সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বুলু বলেন, বিগত সময়ে লেখাপড়া না করিয়ে অটো পাস এবং জিপিএ-৫ দেওয়ার যে সংস্কৃতি চালু করা হয়েছিল, তা জাতিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যার প্রমাণস্বরূপ এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া অনেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম নম্বরও পায়নি।

শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল মিলনের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও সংসদে ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বুলু বলেন, ড. মিলনের মতো একজন বিজ্ঞ ও মেধাবী মানুষের মুখ থেকে এমন বক্তব্য আসা ঠিক হয়নি, তবে তিনি যেহেতু পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চেয়েছেন, তাই এটি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। একে কেন্দ্র করে অন্য কারো ইঙ্গিতে দেশকে অস্থিতিশীল করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা থেকে সবাইকে বের হয়ে আসতে হবে।

ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ।

/এমএইচএন/এমএসএ