বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তারের পর এনসিপি নেতাকে স্থায়ী বহিষ্কার

চট্টগ্রামে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তারের পর এনসিপি নেতাকে স্থায়ী বহিষ্কার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্য মো. আফতাব মজুমদারকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির দপ্তর থেকে পাঠানো এক সাংগঠনিক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নীতি, আদর্শ ও দলীয় শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখা প্রত্যেক সদস্যের মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু, মো. আফতাব মজুমদারের বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ ওঠায় দলীয় গঠনতন্ত্র ও প্রযোজ্য সাংগঠনিক বিধান অনুযায়ী তাকে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্য পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির জরুরি সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নির্দেশক্রমে এ বহিষ্কারের আদেশ জারি করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই থেকে আদেশটি কার্যকর হবে। এর ফলে দলের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত বা পরিচয়ের সঙ্গে আফতাব মজুমদারের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।

এর আগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. আফতাব মজুমদারকে বুধবার (২২ জুলাই) রাতে নগরের হালিশহর থানার বিডিআর মাঠ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি সূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের এক দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় আফতাবের। একপর্যায়ে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলে আফতাব ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ের আশ্বাস দেন।

এজাহারে বলা হয়, গত ১৪ জুলাই রাতে চান্দগাঁও এলাকার সুইট প্যালেস নামে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন আফতাব। পরে ওই শিক্ষার্থী বিয়ের তাগিদ দিলে আফতাব তা অস্বীকার করে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে অনুসন্ধানে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, অভিযুক্ত আফতাব আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার একটি সন্তান রয়েছে।

ঘটনার পর গত ১৯ জুলাই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এমআর/এসএএস