প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ বিএনপিকে বিশ্বাস করেছে। বিএনপি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, সেগুলোকে বিশ্বাস করেছে। এই প্রতিশ্রুতিগুলো যদি অসম্পূর্ণ থাকে তাহলে যতই আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম করি কোনো কাজে আসবে না।
দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের বিদেশ সফরসহ চলমান নানা ইস্যুতে সম্প্রতি রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা পোস্টের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন বিএনপির এই মুখপাত্র। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ঢাকা পোস্টের সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ঢাকা পোস্ট : বিএনপির এখন সাংগঠনিক কার্যক্রম কী? সরকার নাকি দল, কোনটা এগিয়ে?
রুহুল কবির রিজভী : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দলের যে প্রতিশ্রুতিগুলো ছিল সেগুলো নিয়ে মূলত এখন কাজ করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়গুলো যথাযথভাবে কাজ করছে কী না সেসব বিষয়ে দেখাশোনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যাদের দিয়ে মনিটরিং করাচ্ছেন বা করাতে চাচ্ছেন এই মনিটরিং করানোর মধ্য দিয়ে কাজগুলো হচ্ছে। এছাড়া জনগণের প্রতি দলের সেসব প্রতিশ্রুতি সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি অসম্পূর্ণ কাজগুলো এবং সাংগঠনিক কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রিজভী বলেন, যখন নির্দেশ আসবে আরও জোরেশোরে কাজ শুরু হবে। এখন একরকমভাবে যাচ্ছে। কিন্তু কাজ থেমে নেই, কাজ চলছে। সাংগঠনিক কাজ অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এটার স্পিড আপ ডাউন হয়। কখনো একটু আপ হয়, আবার কখনো একটু পড়ে যায়। এটা হতেই পারে। আর সবসময় কি সাংগঠনিক কার্যক্রম একরকম থাকে? নেতাদের আরোও অনেক কাজ আছে। অনেক নেতাকর্মী অসুস্থ থাকেন, তাদের দেখতে হয়। সে কাজগুলো আমরা চলমান রেখেছি। যেমন ধরেন কিছুদিন আগে বরগুনার স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ভীষণভাবে অসুস্থ ছিলেন। দল থেকে তাকে যতটুকু সাপোর্ট করার তা করা হয়েছে। তার পাশে দাঁড়ানো হয়েছে। তাকে সর্বোচ্চ চিকীৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এগুলো সাংগঠনিক কাজেরই অংশ। এ কাজগুলো অব্যাহত রয়েছে।
আমরা যেটা বলেছি সেটা গণমাধ্যম যথাযথভাবে প্রচার করেছে, প্রকাশ করেছে, জনগণ সেটা জানতে পেরেছে। সুতরাং এটাও একটা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে আমরা মনে করি।
ঢাকা পোস্ট : স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান কী?
রিজভী : এ বিষয় নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা কাজ করছেন।
ঢাকা পোস্ট : সরকারের কার্যক্রমকে একজন ক্ষমতাসীন দলের নেতা হিসেবে কীভাবে দেখছেন?
রুহুল কবির রিজভী : গণমাধ্যম উন্মুক্ত আর গণতান্ত্রিক সরকার যে জবাবদিহিতা করে তা গণমাধ্যমের মাধ্যমেই করে থাকে। সরকার কী কী কাজ করছে এবং কী কী প্রতিশ্রুতি ছিল সবই গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণ জানতে পারে। কাজেই সরকারের যেসব কাজ... যেমন এর মধ্যে বাজেট অন্যতম, বাজেটে জনস্বার্থে তিনি কী কী কাজ করেছেন সেটি সবাই জানতে পারছেন গণমাধ্যমের মাধ্যমে। আমরা মিটিং মিছিলের মাধ্যমে বলেছি সরকার কী কী কাজগুলো করছে। যেমন ধরেন, এবারের বাজেটে মুদি দোকানদারের কথাগুলো আমরা বলেছি, যে তাদের ওপর কর আরোপ করা উচিত নয়। এটা একটা ব্যতিক্রমী বিষয়। এখন যে দল সরকারে আছে, সেই সরকার ও দলের লোক কেউ জনস্বার্থে যেটা আদৃত হবে না, সমাদৃত হবে না সে বিষয়গুলো নিয়ে বলতে হবে। আমরাও বলেছি, যে মুদি দোকানদারদের ওপর কর আরোপ করা ঠিক হবে না। সরকার সেটা শুনেছে।
ঢাকা পোস্ট : রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে সরকারের কী কী পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন?
রিজভী : জনস্বার্থে এবং জনদুর্ভোগ যেন না হয় সেটার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর যে মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি সেটা আরও ফুটে উঠেছে কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। তিনি কখনো জনদুর্ভোগ চান না।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া এবং চীন সফর শেষে দেশে ফিরে আসার আগেই আমাদের খবর দিয়েছেন যে কোনো ধরনের জমায়েত ভিড় যেন এয়ারপোর্টে না হয়। আমরা বিএনপির সবাইকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং যথাযথভাবে এটি পালন হয়েছে। এটা একটা ইতিবাচক দিক। এছাড়া প্রতিবছর বাজেটের পর লাঞ্চ বা ডিনার হয়। সেটাতে আমরা দেখেছি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়, প্রায় অর্ধ কোটি টাকা খরচ হয়। প্রধানমন্ত্রী এটা বাদ দিয়েছেন। এটা তো সরকারি টাকা। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে খরচ করা হয়। এটা তিনি বাদ দিয়েছেন। যেসব ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো তিনি নিয়েছেন নিঃসন্দেহে জনগণ এসব বিষয়গুলো জানে আপনাদের মাধ্যমে।
ঢাকা পোস্ট : সরকারের বিদেশ সফরের অর্জনকে কীভাবে দেখছেন?
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা : প্রত্যাশা অনেক উচ্চ। চীন খুবই পরিচিত বন্ধু। সুতরাং এক্ষেত্রে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক যে বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে মালয়েশিয়া এবং চীন সফরে, সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। বন্ধুত্বের প্রশ্নে কোনো ঘাটতি কোনো ধরনের রাখঢাক নেই। সরকার এবং সরকার প্রধানের ব্যক্তিগত কিছু স্বার্থ চরিতার্থ করার বিষয় অতীতে আমরা দেখেছি। এখন সে বিষয়গুলো নেই। রাষ্ট্রের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ এখানে প্রাধান্য পাচ্ছে। জনগণের স্বার্থ অনুযায়ী দুই দেশের চুক্তি হয়। তারপর সমঝোতা স্মারকগুলো.. সবকিছুই হয় জনস্বার্থে এবং জনকল্যাণে। আর জনগণ সেটার দ্বারা উপকৃত হয়।
অর্থাৎ এখানে শ্রমবাজার ওপেন হয়েছে। দলীয় লোকজনেরা ঠিকাদারি পাবে এ ধরনের মানসিকতা বিএনপি সরকারের নেই।
দেশের শ্রমিকরা ব্যাপক আকারে সেখানে যাবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে, সেটা দেশে পাঠাবে, দেশের কল্যাণে কাজ হবে, রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ হবে। এসব সৎ চিন্তা মাথায় নিয়েই সরকার কাজ করছে।
এছাড়া তিস্তা ব্যারেজ, হাইওয়ে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে আমি মনে করি, এগুলো বাস্তবায়নযোগ্য। বাস্তবায়ন হওয়া সম্ভব এবং পুরোটাই ঢিলেঢালা থাকবে না। খুব জোরে জোরে কাজ হবে।
ঢাকা পোস্ট : সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল সম্পর্কে বিএনপির অগ্ৰগতি কী?
রিজভী : এ বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা কথা বলবেন। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না।
এএএম/এমএন
