হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি)।
একই সঙ্গে হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, হবিগঞ্জে একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা, সাংবাদিকদের মারধর, গাড়িবহরে ভাঙচুর এবং মোবাইল ফোন, ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম লুটের ঘটনা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ওপর আক্রমণ নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ওপর প্রকাশ্য আঘাত। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
তারা বলেন, হামলায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া একজন স্কুলশিক্ষার্থীর চোখে রড ঢুকিয়ে দেওয়ার ঘটনাও অত্যন্ত নৃশংস।
এবি পার্টির নেতারা আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো রাষ্ট্রীয় স্থাপনা হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসের ভেতরে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এ ধরনের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের ভাষ্য, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মোকাবিলা হতে হবে যুক্তি, নীতি ও জনগণের রায়ের মাধ্যমে; হামলা, সহিংসতা কিংবা সন্ত্রাসের মাধ্যমে নয়। বিরোধী মতকে ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে দমনের সংস্কৃতি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য অশনিসংকেত।
বিবৃতিতে তারা হামলার পরিকল্পনাকারী, উস্কানিদাতা ও প্রত্যক্ষ হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আহত সাংবাদিক ও নেতাকর্মীদের উন্নত চিকিৎসা, ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে এবি পার্টির দুই নেতা বলেন, বাংলাদেশে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে সব নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সহনশীলতা, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
জেইউ/বিআরইউ
