হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও সংঘর্ষের পর কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় জেলা ত্যাগ করেছেন দলটির শীর্ষ দুই নেতা। তারা হলেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাতে তারা মৌলভীবাজারে গিয়ে অবস্থান নেন।
বুধবার (আজ) সেখান থেকেই তারা পুনরায় হবিগঞ্জে গিয়ে ওই হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত একটি সমাবেশে অংশ নেবেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও সিলেট বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রীতম দাশ।
তিনি জানান, ওই হামলার প্রতিবাদে বুধবার (২৯ জুলাই) হবিগঞ্জে বড় ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এ ছাড়া দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও এতে অংশ নেবেন।
প্রীতম দাশ আরও জানান, হামলার ঘটনার পর পুলিশি নিরাপত্তায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম হবিগঞ্জ থেকে বের হয়ে বর্তমানে মৌলভীবাজারে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই বুধবার সকালে তারা হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হবেন। হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশের জন্য মৌলভীবাজার জেলায় বুধবারের জন্য পূর্বঘোষিত এনসিপির সব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রথমে হবিগঞ্জের প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেবেন। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে আশ্রয় নেন। অন্যদিকে সারজিস আলম শহরের সোনালী ব্যাংকের একটি কার্যালয়ে অবস্থান নেন। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন বলে জানা যায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে পুলিশি নিরাপত্তায় দুই নেতাকে হবিগঞ্জ থেকে বের করে মৌলভীবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই হামলার জন্য স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছে এনসিপি। তবে ছাত্রদলের দাবি, এনসিপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ টাউন হল প্রাঙ্গণে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে তাদের গাড়িবহর সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় বহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিরাপদে সার্কিট হাউসে পৌঁছে দেন।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা।
বিআরইউ
