বিজ্ঞাপন

সাইফুল আলম খান মিলন

জুলাইকে মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করানো সবচেয়ে বড় অপচেষ্টা

জুলাইকে মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করানো সবচেয়ে বড় অপচেষ্টা

জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে আন্ডারমাইন করার নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, এমপি।

তিনি বলেন, এসব অপচেষ্টার মধ্যে সবচেয়ে বড়টি হলো জুলাই আন্দোলনকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা। এ ধরনের বিভাজনমূলক রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে জুলাই আন্দোলন নিয়ে রচিত আটটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা বিভাগ আইসিএস পাবলিকেশনস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিলন বলেন, ‘জুলাইকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। বিভিন্নভাবে জুলাইয়ের চেতনাকে আন্ডারমাইন করার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অপচেষ্টা হলো জুলাই আন্দোলনকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করানো। এ ধরনের বিভাজনমূলক রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয়।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই ছিল আপামর জনসাধারণের আন্দোলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাই জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে দেশের ভেতরে বা বাইরে কোনো ষড়যন্ত্র হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে বৈষম্য, বঞ্চনা ও অন্যায়ের কোনো স্থান থাকবে না। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ‘রক্তে ভেজা সবুজ ডানা’, ‘এক মুঠো রোদ’, ‘আমার জুলাই’, ‘জুলাই বাংলা বর্ণমালা’, ‘জুলাই স্মৃতি (দ্বিতীয় খণ্ড)’, ‘জুলাই রেভল্যুশন ওয়ালস’, ‘Spirit of July ’24 A-Z’ এবং ‘মক্তব’—এই আটটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, সঠিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরতেই এ আয়োজন। 

তিনি গবেষণা, সাহিত্য, গল্প-উপন্যাস ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কাছে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও চেতনা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নুরুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলন নিয়ে গবেষণা, প্রকাশনা, শিশু-কিশোরদের জন্য বই প্রকাশ এবং সারাদেশে স্মৃতিলেখন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ইতিহাস সংরক্ষণের কাজ করা হয়েছে। জুলাইয়ের গুরুত্ব বা স্মৃতিকে ম্লান করার যেকোনো প্রচেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণের চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে থাকা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, জুলাইকে বাদ দিয়ে দেশের পথচলা হতে পারে না। 

তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই ইসলামী ছাত্রশিবির পরীক্ষা বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। একই সঙ্গে জুলাইয়ের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে লেখক, সাহিত্যিক ও প্রকাশকদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু ইতিহাসগ্রন্থে নয়, উপন্যাস, নাটক, শিল্প ও সাহিত্যেও স্থান পাওয়া উচিত। তিনি বলেন, জুলাই কোনো একক সংগঠনের আন্দোলন ছিল না; বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও অসংখ্য সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এটি সংঘটিত হয়েছে। তাই জুলাইয়ের চেতনাকে সব রাজনৈতিক শক্তির ধারণ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে এবং যে কারণগুলো থেকে জুলাইয়ের সৃষ্টি হয়েছিল সেগুলো আবার ফিরে এলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও চেতনাকে গবেষণা, সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এ সময় কবি, কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, অধ্যাপক সাইফুল আরেফিন লেনিন, কথাসাহিত্যিক কবি সোলায়মান আহসান, লেখক জুয়ায়ের হুসাইন এবং জুলাই শহীদ নাসির হাসান রিয়ানের পিতা মো. গোলাম রাজ্জাকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেইউ/বিআরইউ