চট্টগ্রামে জাতীয় ছাত্রশক্তির একটি কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সংগঠনটির এক নেতার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহাতি এক সাংবাদিকের ঘাড় চেপে ধরেন। পরে অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় জুলাই গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিল চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্য, কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন অনলাইন সংবাদমাধ্যম টাইমস টুডের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি আরাফাত হোসেন। একপর্যায়ে কয়েকজন কর্মী তার পরিচয় জানতে চান। আরাফাত সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রেস কার্ড দেখানোর প্রস্তুতি নিলে ছাত্রশক্তির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহাতি তার ঘাড় চেপে ধরেন এবং ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
আরাফাত হোসেন বলেন, আমি স্পষ্টভাবে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি।
ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ও বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে এনপিবি নিউজের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম মাসুম, চট্টগ্রাম প্রতিদিনের প্রতিবেদক আব্দুর রহমান ইমন এবং আরাফাত হোসেন অভিযুক্ত নেতার সঙ্গে কথা বলতে যান। তাদের সঙ্গেও অশালীন আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।
আব্দুর রহমান ইমন বলেন, ছাত্র সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল নেতা হয়েও তিনি আমাদের সঙ্গে অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলেছেন। একপর্যায়ে আমাকে ‘তুই’ সম্বোধন করে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল্লাহ আল মাহাতির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামের সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ করা গণমাধ্যমকর্মীদের সাংবিধানিক ও পেশাগত অধিকার। দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও অসম্মান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এমআর/এসএএস
