সংশোধন না হলে ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলকে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ।
তিনি বিএনপি ও ছাত্রদলের উদ্দেশ্য করে বলেন, "আপনারা কি দেখেন নাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা ছাত্রলীগের কি অবস্থা করেছিল? আপনারা যদি সংশোধন না হন অনতিবিলম্বে আপনাদের সেই ভাগ্য বরণ করতে হবে।"
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীতে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবির, সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ তুলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার রাতে বিক্ষোভ মিছিল করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
সংগঠনটির দাবি, শিক্ষাঙ্গনে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে এর জবাব দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
স্লোগানে স্লোগানে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের এনে হামলা চালানো হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাগুলো একই ধারাবাহিকতার অংশ।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সিবগাতুল্লাহ আরও বলেন, ছাত্রশিবির ধৈর্য ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিশ্বাস করে। তবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার পুনরাবৃত্তি হলে শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক উপায়ে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
সমাবেশের শুরুতে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজসহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে এসব সংগঠনকে প্রত্যাখ্যান করায় এখন তারা জোরপূর্বক ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়ায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষাঙ্গনে পুরোনো দখলদারিত্বের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হলে শিক্ষার্থীরা তা মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিবিরের এ শীর্ষ নেতা বলেন, কথা আমাদের একদম স্পষ্ট- ক্যাম্পাসে যদি কোন রকমের সন্ত্রাসবাদ কায়েম করতে চান, গায়ের জোরে সিট দখল করতে চান, হল দখল করতে চান, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের হাত পা গুটিয়ে বসে থাকবে না। মনে রাখতে হবে গোয়েন্দা বাহিনী এনএসআই ডিজিএফআই পুলিশ, গুন্ডা বাহিনী দিয়ে হাসিনা ১৭ বছর ক্ষমতার মসনদ দখলে রেখেছিল। কিন্তু তারা তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি আপনার একমাত্র বাহিনী ছাত্রদলকে আমাদেরকে চ্যালেঞ্জ করেন। মাথায় রাখবেন আপনার মত আমরা দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে রাজনীতি করি নাই। দেশ থেকে তিলে তিলে খেয়ে না খেয়ে রাজনীতি শিখেছি। বেশি বাড়াবাড়ি করলে ছাত্রদলকে এমন জবাব দেওয়া হবে পাঁচ বছর তো দূরের কথা আগামী একযুগও টিকতে পারবেন না।
জেইউ/এমটিআই
