বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ

‘ভারতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি’

‘ভারতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, শেখ হাসিনার ব্রিফিংকে শুধুমাত্র শেখ হাসিনার বা আওয়ামী লীগের একটা ব্রিফিং হিসেবে দেখছি না। এটাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি এক ধরনের হুমকি স্বরূপ দেখছি। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের অংশ হিসেবে দেখছি। দেশের ভেতরে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরির গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছি। আমরা দেখছি, ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে এখানে দাবার গুটি হিসেবে এবং টুল হিসেবে ব্যবহার করছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যার পর রাজধানীতে দলটির কার্যালয়ে ডাকা জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে শেখ হাসিনা ভারতে রয়েছেন। খুব রিসেন্টলি যখন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী চায়না সফর করলেন তারপরেই আমরা দেখলাম যে তিনি প্রথমবারের মতো রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দিলেন। এর আগে তিনি কোনো ফরমাল সাক্ষাৎকার দিতে পারেন নাই। গতকালকে আমরা প্রথমে যদিও শুনেছিলাম যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আসবেন, পরে শুনলাম অনলাইনে আসবেন। তারপর আমরা দেখলাম যে চেহারাও দেখানো হলো না, ভয়েস এলো। এখন ভয়েস কি আসলে, মানে যখন কেউ পার্সোনালি এপেয়ার করছে না এবং ভিডিওতেও আসছে না তখন তো সন্দেহ জাগেই যে আসলে কি বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে নাকি। তারপরও আমাদের শঙ্কার জায়গাটা হচ্ছে তাকে জাস্ট একটা টুল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতিগতভাবে সব নাগরিকের নোট নেওয়া প্রয়োজন যে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করার জন্য যেই অপরাজনীতি, এই অপরাজনীতিতে খুনি হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ স্পষ্টভাবে সহযোগিতা করছে। এই সহযোগিতা কিন্তু রিকনসিলিয়েশনের পথ। রিকনসিলিয়েশনের কথা বিচারের পরে যে রিকনসিলিয়েশনের কথা আমরাও আমাদের অবস্থানে জানিয়েছি যে, গণত্যার বিচার পরে রিকন্সিলিয়েশন হতে পারে। সিভিল সোসাইটি বলছে, এই পথটাকেও কিন্তু বন্ধ করে দিচ্ছে। এই জিনিসটা চলতে থাকলে হয়তো ভবিষ্যতে আমাদেরও দাবি জানাতে হবে যে কোনো ধরনের রিকনসিলিয়েশন চলবে না এবং অল আউট হয়তো আমাদের সাংগঠনিক অবস্থান নিতে হতে পারে।

সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে দেখেছি বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা শেখ হাসিনার এই যে ব্রিফিংয়ের ঘোষণা আসার পরে এই ব্রিফিং ঠেকানোর জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। তারা ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন কূটনৈতিকভাবে যোগাযোগ এবং আলোচনা করে। আমরা এই ব্রিফিং এর ঠিক দুই থেকে তিন দিন আগে সম্ভবত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে দেখলাম তিনি ভারতের যিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আছেন দিনেশ ত্রিবেদী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন খুব হাসিমুখে। আমরা ছবি দেখলাম এবং সাক্ষাৎ করার পরে তিনি বললেন যে, তারা আশ্বস্ত করেছেন শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি থেকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু আমরা দেখলাম যে, সরকার এই সব কূটনৈতিক তৎপরতায় এক ধরনের কূটনৈতিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এই জায়গা থেকে আমরা মনে করছি, সরকারের এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার ফলেই কিন্তু দেশে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগটা খুনি হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ এবং ভারত ঐক্যবদ্ধভাবে পাচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা আশা করব সামনের দিনগুলোতে সরকার কূটনৈতিক এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তাকে আর কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যেন ভারত সরকার অংশগ্রহণ করতে না দেয় সেটা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে তাকে বাংলাদেশে ফিরে আসা আনার বিষয়ে আরও বেশি তৎপর ভূমিকা পালন করবে।”

সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “এই ঘটনার পরে একটা প্রেস রিলিজ সরকার দিয়েছে। তারা সেখানে কূটনৈতিক ভাষায় একটু খুব জাহির করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা আশা করেছিলাম যে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি। আমরা দাবি করছি, সরকার ভারতের যিনি হাই কমিশনার বাংলাদেশে আছেন দিনেশ ত্রিবেদী। সরকার তাকে তলব করবে এবং তাকে যেন এই ঘটনার জন্য অফিশিয়ালি সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়।”

এমএসআই/এসএম