বিজ্ঞাপন

নির্বাচনী সহিংসতা-অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও বাড়বে : মঞ্জু

নির্বাচনী সহিংসতা-অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও বাড়বে : মঞ্জু

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রাণহানি ও সহিংসতা অন্য নির্বাচনগুলোর তুলনায় কম হয়েছে সত্য, তবে নির্বাচনী অনিয়ম ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের ধরন নতুন রূপ পেয়েছে। নির্বাচন পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার না আনলে ভবিষ্যতে নির্বাচনী সহিংসতা ও অনিয়ম আরও অভিনব আকারে বাড়বে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) ও অধিকার আয়োজিত এক অংশীজন সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, কারা ক্ষমতায় আসবেন— এমন ধারণা যদি নির্বাচনের আগেই তৈরি হয়ে যায়, তাহলে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ও মাঠ প্রশাসনের পক্ষে কোনোভাবেই নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

তার দাবি, নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত যেখানে পেরেছে, সেখানে প্রভাব বিস্তার করেছে। নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন না করা হলে আগামী নির্বাচনগুলোতেও যে দলের যেখানে প্রভাব রয়েছে, সেখানে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কারসাজি বা প্রভাবশালীদের পক্ষে ম্যানিপুলেশনের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে সহিংসতা কমে গেলেই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে— এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ভোটের পরিবেশ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, প্রভাব বিস্তার এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

ক্যাম্পাসে সরকারি ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাস ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিরোধের প্রসঙ্গ তুলে মঞ্জু বলেন, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের চূড়ান্ত পরিণতি অতীতে কখনো ভালো হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। এ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলগুলোকে সমাধানমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন ও মারদিয়া মমতাজ, সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, এনসিপি নেত্রী মুনিরা শারমিন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলিম, অধিকারের পরিচালক নাসিরুদ্দিন এলান, তাসকিন ফাহমিনা এবং ইপিডির প্রকল্প পরিচালক অ্যানাস্তাসিয়া এস উইবাওয়াসহ বিভিন্ন অংশীজন বক্তব্য দেন।

জেইউ/এসএএস