বিজ্ঞাপন

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন

এনটিআরসিএ’র হাতে নিয়োগের ক্ষমতা না দিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুমকি

এনটিআরসিএ’র হাতে নিয়োগের ক্ষমতা না দিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুমকি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কেন্দ্রীয় সুপারিশের ক্ষমতা প্রত্যাহার করে স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ।

সংগঠনটি বলেছে, ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে না দিয়ে এনটিআরসিএকেই শিক্ষক নিয়োগের পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে। দাবি আদায় না হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।

সোমবার (১০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

নেতারা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষাখাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে। মেধার মূল্যায়ন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা অনেকাংশেই কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

তারা বলেন, একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশব্যাপী একসঙ্গে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার যোগ্য প্রার্থীর শিক্ষকতায় প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতো। কেন্দ্রীয় সুপারিশের ফলে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, এনটিআরসিএকে শুধু সনদ দেওয়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে নিয়োগের ক্ষমতা স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির হাতে ফিরিয়ে দিলে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। এতে চাকরিপ্রার্থীদের এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ঘুরতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগে অর্থের লেনদেন, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বাড়বে। ফলে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এক অঞ্চলের প্রার্থী অন্য অঞ্চলে নিয়োগ পাওয়ার কারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, এমন যুক্তির বিষয়ে নেতারা বলেন, আবেদন করার সময় প্রার্থীদের পছন্দের প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের সুযোগ রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থা বাতিল না করে প্রশাসনিক সমন্বয় এবং কার্যকর বদলি নীতিমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে।

তারা বলেন, শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, মেধা ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয়ভাবে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার মাধ্যমে পুরোনো অনিয়মের সুযোগ তৈরি করা হলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে এবং এর প্রভাব সরাসরি শিক্ষার মানের ওপর পড়বে।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা বহাল রাখার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে শিক্ষক নিয়োগের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানান।

তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি ও সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে ছাত্রসমাজ ও চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে রাজপথে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তারা।

জেইউ/এসএএস