বিজ্ঞাপন

ইসিতে হামিদুর রহমান আযাদ

প্রার্থী বাছাইয়ে সংকটে বিএনপি, দৈন্যতায় যোগ্য প্রার্থী দিতে পারছে না

প্রার্থী বাছাইয়ে সংকটে বিএনপি, দৈন্যতায় যোগ্য প্রার্থী দিতে পারছে না

বিএনপি প্রার্থী বাছাইয়ের সংকটে রয়েছে মন্তব্য করে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, ‘শুনেছি, বিএনপি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে বসছে। এখনো কাকে প্রার্থী দেবে, আমরা বা জাতি জানতে পারিনি। কারণ তাদের মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের সংকট আমরা লক্ষ্য করছি। দৈন্যতার জায়গায় যোগ্য প্রার্থী দিতে পারছেন না। সে জায়গা থেকেও আমরা আশা করতে পারি যে কর্নেল সাহেব যোগ্য। তিনি সবার সামনে, জাতির সামনে এসেছেন।’

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আর একটা বিষয় আমরা প্রতিবাদও করতে চাই। সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে, শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে, এটা অতীত রেকর্ডে আমাদের জানা নেই। এই যে কাজটি তারা করছেন, তাহলে তারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন?’ 

১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক, ১১ দলীয় জোট তা চায় না। গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা সৃষ্টি এবং গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই তারা রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাদের এই মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন। আমরা প্রতিনিধিদল সবাই একসঙ্গে উনার কনফারেন্স রুমে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি।’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমাদের মনোনীত প্রার্থী ১১ দলের পক্ষ থেকে ড. কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খেতাবপ্রাপ্ত। তার মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক হচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান এমপি, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির। আর নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আল-আমিন সমর্থক। ফরমে তারা যে সকল তথ্য-উপাত্ত চেয়েছেন, সুনিপুণভাবে ও বিশুদ্ধভাবে আমরা লিখিতভাবে পূরণ করে আজ জমা দিয়েছি। এরসঙ্গে প্রস্তাবক ও সমর্থকের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আইনে অন্য কোনো ডকুমেন্টের কথা বলা নেই। নির্দেশিকাতেও নেই। যতটুকু প্রয়োজন, তা পূরণ করে আমরা জমা দিয়েছি।’

‘আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ আমাদের প্রার্থী ব্যালট প্রার্থী হিসেবে যথাযথ যাচাইয়ের পর ১৬ তারিখের যাচাইপর্বে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হবেন। আমরা এই প্রত্যাশা রাখছি।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন নিয়ে অনেকের কৌতূহল আছে। ইতোমধ্যে পুরো জাতির মধ্যে এটি একটি আলোচিত বিষয়। কারণ বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সরকার এবং সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে সাধারণত সরকারি দলেরই একক প্রার্থী থাকে। এখানে প্রতিনিধিত্ব হয় না।’

তিনি বলেন, ‘একটি মাত্র ইতিহাস বা রেকর্ড আছে, ১৯৯১ সালে যখন সংসদে কারও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। তখন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে বিএনপির ১৪২ জন সংসদ সদস্য ছিল। পরে নারী আসন যোগ হয়েছে। সেখানেও দেখা গেছে, এককভাবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বিজয়ী করার মতো সংসদ সদস্য ভোটার বিএনপির ছিল না। সে সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদের বিরোধী দল ছিল। তারা একজন প্রার্থী দিয়েছিল, বদরুদ্দোজা চৌধুরী, যার নাম আপনারা জানেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসকে জামায়াতসহ অন্যান্য সমর্থক সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছিলেন। এরপর আর কখনো বিরোধী দল থেকে কোনো প্রার্থী এই পদে হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এবার আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ১১ দলের বৈঠকে শীর্ষ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ড. কর্নেল অলি আহমেদকে আমরা মনোনয়ন দিয়েছি।’

কেন সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুটি প্রশ্ন আপনাদের পক্ষ থেকে আগেও এসেছিল, এখনো জাতির কাছে আলোচিত প্রশ্ন। একটা হলো, আপনাদের তো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তাহলে আপনারা কেন এখানে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন? আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছি, বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা আমরা সৃষ্টি করছি।’

‘১৯৯১ সালে যদিও একটা সম্ভাবনা ছিল, বিএনপির আসন কম থাকায়। এখানে তো সেই সম্ভাবনাও নেই। বিএনপি আগেই নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার কলাকৌশল করে নিয়েছে। সেই কারণে তাদের সেফ সাইড আছে। এখানে আমরা জিতব কি হারব, সেটা নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক, আমরা তা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের ধারা। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘এমন একজন প্রার্থীকে আমরা এখানে মনোনয়ন দিয়েছি, যিনি জাতীয়ভাবে পরিচিত, বিতর্কের ঊর্ধ্বে এবং দেশের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি তিনবার মন্ত্রী ছিলেন, ছয়বার এমপি ছিলেন। তিনি পিএইচডি হোল্ডার, উচ্চ ডিগ্রিধারী এবং দেশের জন্য অনেক অবদান রেখে গেছেন।’

‘রাজনীতিতে আসার পর থেকেই দীর্ঘ সময় একসময়ে বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছিলেন। আবার আলাদা দল করেছেন। এখন আবার আমাদের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে রাজনীতি করছেন। আমরা আশা করছি, জাতি এটাকে অবশ্যই ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং আমাদের ১১ দলের সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করছে।’

গণতন্ত্র চর্চায় সাংবিধানিক বাধা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সমস্যা হচ্ছে, গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা একটা ব্যারিয়ার তৈরি করেছে। সেটা হচ্ছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ।’

‘৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে আমরা ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা করেছি। সংসদ সদস্যরা যেন স্বাধীনভাবে জাতির স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এবং দেশের স্বার্থে মতামত দিতে পারেন, সেই জায়গাটা উন্মুক্ত করার বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। সেখানে বিএনপিসহ যারা ঐকমত্য কমিশনে ছিলেন, আমরা প্রায় তিন দিন আলোচনা করার পর সবাই মিলে একমত হয়েছিলাম যে অনাস্থা ভোট এবং অর্থবিল ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারবেন এবং ভোট দিতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘এটাই আমরা সবাই চেয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, সত্য হলো, গণভোটে এটা পাস হওয়ার পরও ১২ ফেব্রুয়ারির পর বিএনপির গোঁড়ামি এবং দলীয় সংকীর্ণতার কারণে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে না পারার কারণে গণতন্ত্রকে আবার জনগণের অধিকারের জায়গা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা এই সংস্কার করছেন না। বিশেষ করে গণভোটের যে রায়, সেটি তারা বাস্তবায়ন করছেন না।’

‘গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন হতো, তাহলে আজকে আমরা আশা করতাম, কর্নেল সাহেব বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন। কারণ সংসদ সদস্যদের কাছে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য প্রার্থী।’

বিএনপির প্রার্থী নিয়ে তিনি বলেন, ‘আবার শুনছি, বিএনপি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে বসছে। এখনো কাকে প্রার্থী দেবে, আমরা বা জাতি জানতে পারিনি। কারণ তাদের মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের যে সংকট আমরা লক্ষ্য করছি, এই যে  দৈন্যতার জায়গায় যোগ্য প্রার্থী দিতে না পারা, সে জায়গা থেকেও আমরা আশা করতে পারি যে কর্নেল সাহেব যোগ্য। তিনি সবার সামনে, জাতির সামনে এসেছেন।’

সচিবালয়ে রাজনৈতিক বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আর একটা বিষয় আমরা প্রতিবাদও করতে চাই। সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে, শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে, এটা অতীত রেকর্ডে আমাদের জানা নেই। এই যে কাজটি তারা করছেন, তাহলে তারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন?’

‘আমার দলের মত হলে গণতন্ত্র, না হলে স্বৈরতন্ত্র। পাঁচ মাস বা ছয় মাসের কার্যক্রম, অতীত থেকে কোনো পরিবর্তন নাই। তাদের মহাসচিব ফখরুল সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটাই জাতি জেনে গেছে। বোঝা যাচ্ছে, তারা আসলে পরিবর্তন চান না বলেই পরিবর্তন হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘পরিবর্তন যদি তারা চাইতেন, তাহলে সংসদের প্রথম শপথের দিন তারা সাংবিধানিক পরিষদে, সংস্কার পরিষদে শপথ নিতেন, অধিবেশন ডাকতেন। এর মধ্যে সংস্কার হতো, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হতো।’

‘আমরা এখন আশাবাদী হতে চাই। পার্লামেন্টেও আমাদের সংসদ সদস্যরা বারবার বিষয়টি তুলেছেন। রাজপথেও আমরা ভূমিকা রাখছি, আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। তারা যাতে সংসদে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কাজটি করেন, অর্থাৎ গণভোটের রায় কার্যকর করেন, সেই সময় এখনো আছে। তাহলে তারা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

সরকার যদি চায়, একটি অধ্যাদেশ জারি করেও এটা করতে পারে। পার্লামেন্ট যেহেতু নেই, অনেক অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে জারি করেছেন। তার সঙ্গে যদি বলতেন, সবাই মিলে যখন একমত হয়েছি, একটা অধ্যাদেশ জারি করে দেই, বাংলাদেশের গণতন্ত্র উচ্চ পর্যায় থেকে চর্চা শুরু হোক, তারাও এটা করার সুযোগ আছে।’

এসময় ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

এমএসআই/এমএসএ 

বিজ্ঞাপন